বসন্তের এই সময়ে দীর্ঘস্থায়ী কাশির সমস্যা বেড়েই চলেছে। প্রায় প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ কাশি নিয়ে ভোগছে। অনেক সময় সাধারণ কাশি ওষুধ বা ঘরোয়া টোটকা কার্যকর হচ্ছে না, ফলে কাশি স্থায়ী হয়ে ১৫-২০ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে দাঁড়ায়। মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. সাঈদ হোসেন বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। কাশি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণ ভাইরাল সংক্রমণ ও পোস্ট-ভাইরাল কফ: ফ্লু বা সাধারণ সর্দি সেরে গেলেও শ্বাসনালীর সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। ফলে সংক্রমণ শেষ হলেও ২–৩ সপ্তাহ কাশি থেকে যেতে পারে। বায়ুদূষণ ও ধুলাবালি: শুষ্ক মৌসুমে বাতাসে অদৃশ্য ধূলিকণা ও ধোঁয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। যাদের অ্যালার্জি বা সাইনাসের সমস্যা আছে, তাদের শ্বাসনালীতে সংবেদনশীলতা তৈরি হয়ে দীর্ঘস্থায়ী খুসখুসে কাশি হয়। কফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমা: অনেকেরই সাধারণ হাঁপানি না থাকলেও শুধু কাশির মাধ্যমে অ্যাজমার লক্ষণ প্রকাশ পায়। ধুলাবালি বা এসির ঠান্ডা বাতাসে কাশি বেড়ে যায়। অ্যাসিডিটি বা পেটে অতিরিক্ত অ্যাসিড: পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড গলার দিকে উঠে এলে কাশি শুরু হয়, যা অনেকেই সাধারণ ঠান্ডা মনে করে এড়িয়ে যান। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধ বয়স্কদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শুকনো কাশির একটি বড় কারণ হয়ে থাকে। আরও পড়ুন: ঈদে অতিভোজ নয়, সুষম খাবারই ভালো হঠাৎ বেশি মাংস খেলে শরীরে কি সমস্যা হতে পারে? সংযম শেষে হঠাৎ অতিরিক্ত খাবার খেলেই বিপদ ঘরোয়া প্রতিকার গরম পানি ও ভাপ: প্রচুর পানি পান করুন। আদা-মধু পানি, লিকার চা বা গরম পানি শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। লবণ-পানির গার্গল: হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে দিনে তিনবার গার্গল করলে গলার অস্বস্তি কমে। মাস্ক ব্যবহার: বাইরে বের হলে ধুলাবালি ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতে অবশ্যই মাস্ক পরুন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টি: যথেষ্ট ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার (বিশেষ করে ভিটামিন-সি যুক্ত ফল) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বয়স্কদের জন্য সতর্কতা বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা নিউমোনিয়া বা হৃদরোগের লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় হৃদরোগের কারণে শরীরে পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী কাশি দেখা দেয়। তাই বয়স্কদের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহের বেশি কাশি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন কাশির সঙ্গে জ্বর বা বুকে ব্যথা কাশির সঙ্গে রক্ত দেখা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা কথা বলতে সমস্যা অপ্রত্যাশিত ওজন কমে যাওয়া দীর্ঘস্থায়ী কাশি কেবল ঋতু পরিবর্তনের স্বাভাবিক উপসর্গ নয়, বরং এটি পরিবেশগত দূষণ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সতর্কবার্তা। ঘরোয়া প্রতিকার ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস কাশি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কাশির স্থায়িত্ব বাড়লে বা শরীর দুর্বল হয়ে গেলে সেটিকে অবহেলা করা বিপজ্জনক। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই হলো নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার চাবিকাঠি। জেএস/