হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযান নিয়ে আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। তিনি বলেছেন, তার দেশ হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখতে সাহায্য করতে প্রস্তুত ফ্রান্স—তবে সেটা চলমান ইরান যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি মিশনের অংশ হিসেবে হতে হবে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানানোর প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা এই সংঘাতে জড়িত নই। তাই হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া বা নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সামরিক অভিযানে ফ্রান্স অংশ নেবে না।’ প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে এক নিরাপত্তা বৈঠকের আগে ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, কোনো উদ্যোগ নিলে তা অবশ্যই ইরানের সঙ্গে আলোচনা ও উত্তেজনা কমানোর মাধ্যমে করতে হবে এবং সেটি চলমান বোমা হামলা বা সামরিক অভিযানের বাইরে আলাদা রাখতে হবে। গত দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করার পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালী দিয়ে আরও জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। চলতি সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর সময় থেকে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। এদিকে অনেক চেষ্টা করেও হরমুজ প্রণালী ‘মুক্ত’ করতে না পেরে মিত্র দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন ট্রাম্প। কিন্তু মিত্র দেশগুলো তাতে তেমন সাড়া দিচ্ছে না। সবচেয়ে ‘ঘনিষ্ঠ মিত্র’ ব্রিটেন সরাসরি এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া ফ্রান্স, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানিসহ অন্য মিত্ররাও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যা ট্রাম্পের হতাশা বাড়াচ্ছে। ফলে এখন তাকে মিত্রদের হুমকি-ধমকি দিতেও দেখা যাচ্ছে। গত রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা যদি হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সহায়তা না করে, তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ ‘খুবই খারাপ’ হবে। আরও পড়ুন: আল জাজিরার এক্সপ্লেইনার / কেশম দ্বীপ: ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র দুর্গ ও ভূতাত্ত্বিক বিস্ময় তার মতে, যারা এই প্রণালির সুবিধাভোগী, তাদেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। আর যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইউরোপ ও চীন উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। আরও বলেন, ‘যদি কোনো ইতিবাচক সাড়া না আসে, তাহলে আমি মনে করি এটি ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুবই খারাপ হবে।’