পাকিস্তানি স্পিনার আবরার আহমেদকে দ্য হান্ড্রেডের আসন্ন আসরের জন্য স্বাক্ষর করাকে ঘিরে বিতর্ক এখন কেবল ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যেও তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ভারতের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারের কঠোর সমালোচনার পর এবার তার জবাব দিয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত ইংলিশ ক্রিকেটার আজিম রফিক, যা বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।রফিক সামাজিক মাধ্যমে গাভাস্কারের মন্তব্যকে 'অযৌক্তিক' এবং 'ঘৃণ্য' বলে আখ্যা দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গাভাস্কার কি অন্য ক্ষেত্রেও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন? তার মতে, অতীতের অর্জন এমন মন্তব্যকে বৈধতা দেয় না।এর আগে গাভাস্কার সানরাইজার্স লিডসের মালিকদের সমালোচনা করেন, কারণ তারা পাকিস্তানি স্পিনার আবরার আহমেদকে দলে নিয়েছে। মিড-ডে পত্রিকায় লেখা তার কলামে তিনি বলেন, পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক কর হিসেবে সরকারের কাছে যায়, যা পরোক্ষভাবে অস্ত্র কেনায় ব্যবহৃত হতে পারে বলে তার ধারণা।তিনি আরও বলেন, বিদেশি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হলেও এই উদ্বেগ থেকে যায়। এমনকি তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি টুর্নামেন্ট জেতা কি ভারতীয় মানুষের জীবনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ? আরও পড়ুন: রমজানের সৌহার্দ্যে জয়াসুরিয়া: মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে রোজা রাখার ঐতিহ্য এখনো অটুটগাভাস্কার উল্লেখ করেন, দলের প্রধান কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি নিউজিল্যান্ডের হওয়ায় হয়তো পুরো পরিস্থিতি বুঝতে পারেন না, তবে দায়িত্ব মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকদের ওপরই বর্তায়।আবরার আহমেদকে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে (প্রায় ২.৩৪ কোটি রুপি) দলে নেওয়া হয়েছে, যা ভারতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এর আগে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ড দলগুলোকে বৈষম্যবিরোধী নীতি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছিল, বিশেষ করে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের নির্বাচন বা এড়িয়ে চলা নিয়ে উদ্বেগের কারণে।অন্যদিকে, আজিম রফিকের নিজের ক্যারিয়ারও বিতর্কিত অভিজ্ঞতায় ভরা। ১৯৯১ সালে করাচিতে জন্ম নেওয়া এই অফ-স্পিনার ইংল্যান্ডের যুব দলে খেলেছেন এবং ২০১২ সালে ইয়োর্কশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক ছিলেন।২০২০ সালে তিনি ইয়র্কশায়ার ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের অভিযোগ তোলেন, যেখানে তিনি দাবি করেন তার পাকিস্তানি পরিচয় নিয়ে বারবার বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে।আরও পড়ুন: ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী এমসিসির চোখে সালমানকে মিরাজ বৈধভাবেই রানআউট করেছেন২০২১ সালে ইয়র্কশায়ার স্বীকার করে যে রফিক 'জাতিগত হয়রানি ও বুলিং'র শিকার হয়েছিলেন, এবং একটি স্বাধীন তদন্ত প্যানেল তার ৪৩টি অভিযোগের মধ্যে ৭টি প্রমাণিত বলে নিশ্চিত করে।এই ঘটনা ইংলিশ ক্রিকেটে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং ক্লাবটির কোচিং ও প্রশাসনিক পর্যায়ে বড় পরিবর্তন আনে। একই বছর নভেম্বর মাসে রফিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেন এবং পুরো ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও সংস্কারের দাবি জানান।