যশোরে কতিপয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এক চিকিৎসক ও তার পরিবারকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মানসিক হেনস্তা এবং নিখোঁজ শ্যালিকাকে ব্যবহার করে এ চাঁদাবাজির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. মো. রাফসানজানি।বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। ডা. রাফসানজানি মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত এবং সম্প্রতি ৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে ডা. রাফসানজানি জানান, গত ১০ দিন ধরে একটি পারিবারিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে তিনি এবং তার স্ত্রীর পরিবার চরম মানহানি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। গত রোববার (৮ মার্চ) 'স্বদেশ বিচিত্রা'র সাংবাদিক পরিচয়ধারী আসিফ আকবর সেতু নামে এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে জানিয়ে দেখা করতে বলেন। দেখা করলে সেতু জানান, ওই চিকিৎসকের ১৭ বছর বয়সী শ্যালিকা সামিয়া আফরুজ 'যশোর জার্নাল' নামের একটি ফেসবুক পেজে একটি অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পত্রিকায় সংবাদ ঠেকাতে সেতুর এক সহযোগী ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) 'ডিবিসি নিউজ'-এর সাংবাদিক সাকিরুল কবীর রিটন তাকে দেখা করতে বলেন। ওইদিন রাতে যশোর মাইকপট্টি এলাকায় 'এশিয়ান টেলিভিশন'-এর সাংবাদিক শামীমের অফিসে ডা. রাফসানজানি ও তার স্ত্রীকে জিম্মি করে রাখা হয়। সেখানে তাকে ক্যামেরার সামনে বসিয়ে নিউজ করার ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকার একটি ‘প্যাকেজ’ প্রস্তাব দেয়া হয়। এর মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য ১০ লাখ এবং তার শ্যালিকাকে মামলা থেকে বিরত রাখতে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে চাকরিচ্যুত ও মানহানির হুমকি দেয়া হয়। ভুক্তভোগী চিকিৎসক জানান, তার শ্যালিকা সামিয়া আফরুজ মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ এবং প্রায়ই কাল্পনিক কথাবার্তা বলেন। গত রোববার (১৫ মার্চ) তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। এ ঘটনায় সোমবার (১৬ মার্চ) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জানা যায়, সামিয়া মণিরামপুর গাজী সুপার মার্কেট এলাকায় রয়েছেন। আরও পড়ুন: অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ, আটক বাবা-ছেলেকে ফেরত দিলো বিএসএফ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সাংবাদিক পরিচয়ের ওই দুর্বৃত্তরা মেয়েটিকে পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দরকষাকষি করছে। তারা মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে বারবার টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। চাঁদাবাজ চক্রটি ডা. রাফসানজানির মোবাইলে একাধিক মেসেজ পাঠায়। মেসেজে তারা লেখে, 'কালকে মামলা ও নিউজ হবে। আমাদের টিম যাবে হাসপাতালে। আপনাকে আর মেটানোর সুযোগ দেয়া হবে না।', 'আমরা রিপোর্টার্স ক্লাব, নিউজে যাচ্ছি! আপনার উপজেলা, জেলা সিভিলের বক্তব্য নিয়ে...', 'আপনি কি এ ঘটনার একেবারে নিষ্পত্তি চান? তাহলে ফ্রি হয়ে কল দিয়েন। না হলে মণিরামপুর থানায় মামলা হবে এবং ত্রিশটা পত্রিকায় নিউজ হবে।' এছাড়াও তারা লেখে, 'প্রেসক্লাবের সাথে যোগাযোগ করে লাভ হবে না। আপনার সম্পূর্ণ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, এরপরও যদি মনে হয় আপনি স্লিপ দিয়ে বের হবেন সেটা সম্ভব না। টেক কেয়ার...', 'এখন ভিডিও নিউজ আপলোড হবে। সব ডকুমেন্ট আছে। আপনি তো ফোন রিসিভ করলেন না, আপনার ক্যারিয়ার শেষ।' ডা. রাফসানজানি বলেন, 'সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে নিউজ না করে এভাবে দফায় দফায় লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং একটি মেয়েকে ব্যবহার করে পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া সাংবাদিকতার নীতিবহির্ভূত।' তিনি এই চাঁদাবাজ চক্রের হাত থেকে মুক্তি পেতে এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও যশোর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে ডা. রাফসানজানির স্ত্রী সাজেদা আফরুজ, শ্বশুর সাজেদুর রহমান এবং শাশুড়ি সেলিনা বেগম উপস্থিত ছিলেন।