বাংলাদেশ ক্বওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড (বেফাক)-এর ৪৯ তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় হিফজুল কুরআন বিভাগে ১৩০ নম্বর গ্রুপে সারা বাংলাদেশে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে কুমিল্লার কৃতি সন্তান, নিবরাস মাদরাসার হাফেজ মারজুক বিন সোহেল।বুধবার (১৮ মার্চ) বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয় থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ এলাকায় অবস্থিত নিবরাস ইসলামিক স্কুল এন্ড মাদরাসার এই ছাত্র ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় পূর্ণ 'ফুল মার্কস' ২০০ পেয়ে এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেন।ঘোষণায় হিফজ বিভাগে সারাদেশে প্রথম স্থান অধিকারকারী হাফেজ মারজুক বিন সোহেল ১০৩ নম্বর গ্রুপে যৌথভাবে ৬ জন এক প্রথমস্থান অর্জন করেন। তাদের মধ্যে প্রথমেই হাফেজ মারজুক বিন সোহেলের নাম দেখা যায়।এর আগে পিএইচপি কোরআনের আলো প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল মারজুক। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় হাফেজ কল্যাণ সমিতি ও কুমিল্লা জেলা ক্বওমী মাদরাসা সংগঠনের অধীনে একাধিকবার ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেছে সে। মাত্র ১১ মাস ২৩ দিনে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে সে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নিবরাস ইসলামিক স্কুল এন্ড মাদরাসা কুমিল্লার প্রাণকেন্দ্র টমচমব্রীজে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়েই কুমিল্লার অন্যতম সেরা দ্বীনি বিদ্যাপীঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৮০০ ছাত্র অধ্যয়নরত। প্রতিষ্ঠানটিতে স্কুল বিভাগ (নার্সারি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত), হিফজ বিভাগ ও নুরানী বিভাগ চালু রয়েছে। সিসি ক্যামেরা দ্বারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।প্রতিষ্ঠানের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নিবরাস ইসলামিক স্কুল এন্ড মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মুফতি আবুল বাশার বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মারজুকের এই সাফল্য আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য এক বড় নেয়ামত। তার মেধা ও বিনয় আমাদের মুগ্ধ করে। এই অর্জনের পেছনে মারজুকের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি তার বাবা-মা এবং আমাদের শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা রয়েছে। আমরা কেবল কুরআন মুখস্থ নয়, বরং সুন্নাহ ভিত্তিক উন্নত চরিত্র গঠনের মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক গড়ার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি আদর্শ প্রজন্ম তৈরি করা।’ তার শিক্ষক হাফেজ কারি জসিম উদ্দীন আবেদিন বলেন, ‘হাফেজ মারজুক বিন সোহেলের এই অসাধারণ সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞ। একজন শিক্ষকের জন্য এর চেয়ে বড় সুখ আর কিছু হতে পারে না, যখন তার ছাত্র এমন গৌরব বয়ে আনে।’ এদিকে মারজুকের এই সাফল্যে নিবরাস পরিবার, শিক্ষক ও তার এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে নিয়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। নিবরাস পরিবারের পক্ষ থেকে মারজুক, তার অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানানো হয়েছে।