জুন উইন্ডো পেরিয়ে শমিতের চোখ সাফে

ঈদের আমেজের মধ্যেই আবারও জমে উঠছে দেশের ফুটবল অঙ্গন। জাতীয় দলের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক নারী ও পুরুষ দলগুলোর সামনেও এখন ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি ও নতুন চ্যালেঞ্জ।তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হাভিয়ের কাবরেরার নেতৃত্বাধীন জাতীয় দল। সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন দুটি অ্যাওয়ে ম্যাচ, যেখানে ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের মাটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশ। এই দুটি ম্যাচকে ঘিরে ইতোমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে দল, আর সমর্থকদের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি উত্তেজনা।  অতীতের পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পক্ষে খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর— দুই দলের বিপক্ষে এখনো জয়ের দেখা পায়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফিফা র‍্যাংকিংয়েও ব্যবধান স্পষ্ট; বাংলাদেশ অবস্থান করছে ১৮০ নম্বরে, যেখানে ভিয়েতনাম ১০৮ এবং সিঙ্গাপুর ১৪৮ নম্বরে অবস্থানে।  তবে এসব পরিসংখ্যান নিয়ে খুব একটা মাথা ব্যথা নেই শমিত সোমের। বুধবার (১৮ মার্চ) বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমিত জানান, আপাতত দলের পূর্ণ মনোযোগ ভিয়েতনাম ম্যাচকে ঘিরেই। এরপর লক্ষ্য থাকবে সিঙ্গাপুরকে মোকাবিলা করা। ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য ভিয়েতনাম, এরপর সিঙ্গাপুর।’  আরও পড়ুন: ক্লপের লিভারপুলই ছিল সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ, রিয়াল নয়: গার্দিওলা তিনি আরও বলেন, জুনের আন্তর্জাতিক সূচি শেষ করেই দলের মূল লক্ষ্য থাকবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করা। ‘জুনের উইন্ডো পার করে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আমরা এখন নিজেদের গর্বের জায়গা থেকে খেলছি।’  আগামী ২৬ মার্চ ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এরপরই এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামবে লাল-সবুজের দল।  শমিতের মতে, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের মতো শক্ত প্রতিপক্ষকে তাদের নিজেদের মাঠে হারাতে পারলে সেটি হবে বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য বড় এক মাইলফলক। এমন সাফল্য এশিয়ান ফুটবলে দেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে এবং প্রতিপক্ষ দলগুলোর কাছেও নতুন করে সম্মান আদায় করবে।  তবে শুধু আক্রমণ নয়, পুরো দলের সমন্বিত পারফরম্যান্সের দিকেই জোর দিচ্ছেন এই মিডফিল্ডার। অতীতে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ম্যাচ হারানোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে চান তিনি। গত বছর হংকংয়ের বিপক্ষে নিজের গোলের পরও শেষদিকে গোল খেয়ে হারার স্মৃতি এখনও তাজা। সেই প্রসঙ্গে শমিত বলেন, ‘ফুটবলে একা ম্যাচ জেতানো সম্ভব নয়। রক্ষণ থেকে আক্রমণ— সব বিভাগকে এক হয়ে লড়তে হবে। ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলে আমাদের সাফের জন্য সেরা প্রস্তুতি নিতে হবে।’  আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়াকে উড়িয়ে নারী এশিয়ান কাপের ফাইনালে জাপান এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ‘সি’ গ্রুপে ৫ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে টেবিলের তলানিতে আছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে সিঙ্গাপুর, ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হংকং এবং ৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে ভারত।  জাতীয় দলের ব্যস্ততার পাশাপাশি বয়সভিত্তিক দলগুলোর সামনেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সূচি। নেপালে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আগামী ২৪ ও ২৮ মার্চ পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশের তরুণরা।  অন্যদিকে, মেয়েদের অনূর্ধ্ব-২০ দলও অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জের। এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপে থাইল্যান্ড, চীন ও ভিয়েতনামের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।