জয়দেবপুরে সংঘর্ষ, ব্যর্থ সেনা পরিকল্পনা

জয়দেবপুরে সেনাবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন হুরমত, নিয়ামত ও মনু খলিফাসহ আরও অনেকে। আহত হয় বহু মানুষ। বীর বাঙালির এই সশস্ত্র প্রতিরোধের ফলে ব্যর্থ হয় দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সেনাদের নিরস্ত্র করার চেষ্টা। সংঘর্ষের খবর বিদ্যুৎবেগে ছড়িয়ে পড়ে ঢাকাসহ সারাদেশে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘জয়দেবপুরের পথ ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। জয়দেবপুরে একদিনের ঘটনায় শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য সান্ধ্য আইন জারি করা হয়। এ প্রসঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যারা বুলেট ও শক্তি দিয়ে গণ আন্দোলনকে স্তব্ধ করবেন বলে ভেবেছেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। বাংলাদেশের মানুষ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। কিন্তু এর অর্থ এই নয়, তারা শক্তি প্রয়োগে ভয় পায়।’ একদিনের বিরতির পর ঢাকায় বেলা ১১টায় শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান তৃতীয় দফা একান্ত বৈঠক করেন। ঢাকাসহ সারাদেশে কালো পতাকা উত্তোলন অব্যাহত থাকে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মবিরতি চলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ভবনে উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষে অংশ নেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও কামাল হোসেন। সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি এআর কর্নেলিয়াস, লেফটেন্যান্ট জেনারেল পীরজাদা ও কর্নেল হাসান। দুই ঘণ্টার বৈঠকে আলোচনার ‘টার্মস অব রোফারেন্স’ ঠিক করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে এদিনও সমবেত জনতার মিছিল দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে বাঁচার ব্যবস্থা করে যাব।’ ন্যাপ প্রধান মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া অহেতুক ঢাকায় সময় নষ্ট করছেন। ইয়াহিয়া খানের বোঝা উচিত শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়া পাকিস্তানকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।’ পশ্চিম পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের স্বতন্ত্র সদস্য ও সংখ্যালঘিষ্ঠ দলের নেতারা এক বৈঠকে ভুট্টোবিরোধী একটি যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো ঘোষণা করেন, ক্ষমতার ব্যাপারে আমাদের দলকে হেয় করার ষড়যন্ত্র হলে আমরা চুপ করে বসে থাকবো না। পূর্ব পাকিস্তানের লোকদের শক্তি দেখেছেন, এবার পশ্চিম পাকিস্তানিরাও আমাদের শক্তি দেখবে।’ তথ্যসূত্র: রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর ‘৭১ এর দশমাস’, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও ১৯৭১ সালে প্রকাশিত সংবাদপত্র এমএএস/এমআইএইচএস