ঈদযাত্রা কেন্দ্র করে গত ১৩ মার্চ থেকে ট্রেনে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেনগুলো সময়মতো ছেড়ে গেলেও বুধবার বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনের সময়সূচিতে কিছুটা বিলম্ব দেখা দিয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীরা ট্রেন পরিবর্তনের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছাবেন। এ কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নীলসাগর এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের যাত্রীরা কমলাপুর স্টেশনে এসে জড়ো হন। স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা বারবার ডিজিটাল এলইডি মনিটরের সামনে ভিড় করছেন, কখন তাদের কাঙ্ক্ষিত নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা করা হবে, সেই অপেক্ষায়। প্রায় প্রতিটি মনিটরের সামনেই যাত্রীদের জটলা দেখা যায়। যদিও ট্রেনটির সম্ভাব্য ছাড়ার সময় সকাল ৮টা দেখানো হয়েছে, তবে সকাল পর্যন্ত কোনো প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা করা হয়নি। ট্রেনটি ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট। এদিকে ট্রেনটি বিলম্ব হওয়ায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাইকে বারবার যাত্রীদের অবহিত করা হচ্ছে এবং দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে। মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, ‘সম্মানিত যাত্রীরা, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন কিছু সময় বিলম্বিত হবে। এ বিলম্বের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’ সকাল ৭টার দিকে ডিজিটাল স্ক্রিনের সামনে কথা হয় দিনাজপুরগামী যাত্রী মারুফের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা হলেও তার মনে হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছিই ট্রেন ছাড়বে, কারণ বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাই তিনি সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের আগেই স্টেশনে এসে পৌঁছেছেন। মারুফ বলেন, ‘দুর্ঘটনার ওপর তো কারও হাত নেই। আমরা ধরেই নিয়েছি ট্রেন কিছুটা দেরি হবে।’ নীলসাগর এক্সপ্রেসের আরেক যাত্রী মিনা হোসেন জানান, তারা সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছেছেন। ঘোষণা অনুযায়ী ট্রেন চলাচল করবে এবং সকাল ৮টাকে সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে। তবে এখনো কোনো প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘কোন প্ল্যাটফর্ম দেয় কি না দেখতে আমরা বারবার স্ক্রিনের সামনে যাচ্ছি। প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা হলে সেখানেই অপেক্ষা করবো।’ নওগাঁগামী যাত্রী হানজালা বলেন, শুরুতে তাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ ছিল আদৌ গ্রামে যেতে পারবেন কি না। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেন চলাচল করবে শুনে সেই উদ্বেগ কেটে গেছে। আরও পড়ুনট্রেন চলাচল সচল হতে আরও ৮-১০ ঘণ্টা সময় লাগতে পারেট্রেনটা হঠাৎ কেঁপে উঠলো, তার পরই দেখি মানুষ চিৎকার করছে তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে ততই ভালো হবে। কারণ অনেকেই পরিবার নিয়ে স্টেশনে এসেছেন। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে এলে অন্তত টয়লেট ব্যবহারসহ কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া যেত।’ ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে বগুড়ার সান্তাহারে দুর্ঘটনার শিকার ট্রেনের ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও দুর্ভোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নীলসাগর এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত ৯টি বগি উদ্ধার করতে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। আপাতত ট্রান্সশিপমেন্ট পদ্ধতিতে যাত্রীদের পরিবহন করা হবে। অর্থাৎ পঞ্চগড় থেকে আসা ট্রেন এবং ঢাকা থেকে যাওয়া ট্রেনের যাত্রীরা দুর্ঘটনাস্থলে ট্রেন পরিবর্তন করে যাত্রা অব্যাহত রাখবেন। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে বগুড়ার সান্তাহারে ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইএআর/বিএ