ঈদ উদযাপনের জন্য ৫টি স্বাস্থ্য পরামর্শ

রোজার শেষ এবং ঈদ উদযাপনের মুহূর্ত এসে গেছে। এই সময় খাওয়া-দাওয়া এবং জীবনযাত্রার অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সাকিয়া হক এই ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জন্য দিয়েছেন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবার্তা। খাদ্য গ্রহণে পরিমিতি বজায় রাখুন ঈদের দিনে মিষ্টি, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এবং মাংসের অতিরিক্ত সেবন স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়ে যায়। ডা. সাকিয়া হক বলেন, ‘রোজার পর দীর্ঘ ক্ষুধার কারণে কেউ কেউ অতিরিক্ত খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এটি হজমে সমস্যা, এসিডিটি এবং পেট ফাঁপা হওয়ার মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই খাবার অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন।’ পর্যাপ্ত পানি পান করুন রোজা শেষে দেহ পানিশূন্য অবস্থায় থাকে। তাই ঈদের দিন পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডা. সাকিয়া হক পরামর্শ দেন, খাবারের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে পানি, লেবুর শরবত বা দুধ-দই জাতীয় পানীয় ব্যবহার করুন। এটি হজম প্রক্রিয়া সুগম করবে এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমাবে। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখুন ঈদের আনন্দে অনেকেই শারীরিক পরিশ্রম বা হাঁটা-দৌড়ের অভ্যাস ভুলে যান। কিন্তু ডা. সাকিয়া হক বলেন, হালকা শারীরিক অনুশীলন, যেমন হাঁটা বা ছোটখাটো ব্যায়াম অব্যাহত রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রক্তচাপ ও শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আরও পড়ুন:  ১৫-২০ দিন ধরে কাশি থামছে না? জানুন সহজ সমাধান ঈদে অতিভোজ নয়, সুষম খাবারই ভালো হঠাৎ বেশি মাংস খেলে শরীরে কি সমস্যা হতে পারে? শিশুরা ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন নেওয়া রোজার পরে শিশুরা এবং বয়স্করা সহজেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ডা. সাকিয়া হক উল্লেখ করেন, শিশুদের অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ানো, বৃদ্ধদের অতিরিক্ত মাংস বা চর্বিযুক্ত খাবার দেওয়া এড়িয়ে চলুন। পাশাপাশি কার্ডিওভাসকুলার বা শর্করা রোগে আক্রান্তদের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ করুন। মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখুন ঈদ হলো আনন্দের উৎসব, কিন্তু এই সময়ে মানসিক চাপও বেড়ে যেতে পারে। ডা. সাকিয়া হক বলেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, সামাজিক সংযোগ বজায় রাখুন এবং অতিরিক্ত উদ্বেগ ও চাপ এড়িয়ে চলুন। মানসিক শান্তি রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি ছোট ছোট বিশ্রাম নিন। ডা. সাকিয়া হকের এই পরামর্শগুলো শুধু রোজার শেষের দিনেই নয়, বরং সারাবছরের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে। তিনি আরও বলেন, ঈদ আনন্দের দিন, কিন্তু স্বাস্থ্যই প্রকৃত ধন। সুস্থ থাকলেই সত্যিকারের আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব। এই পাঁচটি স্বাস্থ্যবান্ধব পরামর্শ অনুসরণ করলে ঈদ উদযাপন হবে আনন্দময় এবং স্বাস্থ্যসম্মত। জেএস/