গ্যাস ও তেলক্ষেত্রে ইরানের হামলায় আমিরাতের প্রতিক্রিয়া

গ্যাস ও তেলক্ষেত্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। হাবশান গ্যাস স্থাপনা ও বাব তেলক্ষেত্রে ইরানের হামলাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এটি ‘বিপজ্জনকভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি’ করেছে এবং এটা আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালার লঙ্ঘন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইউএই তাদের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এবং নিজেদের অর্জনগুলো সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে। এছাড়া জানানো হয়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে হামলাগুলো প্রতিহত করেছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তারা আরও বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করেছে। গত বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের বুশেহর অঞ্চলে আসালুয়েহ বন্দরের উপকূলে সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ও উত্তরাঞ্চলের বন্দর আনজালি এলাকায় নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালায় ইসরাইল। ইরানের সাউথ পার্স বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র। যেখানে ইরান ও কাতার উভয় দেশের গ্যাস উত্তোলন-বিষয়ক স্থাপনা রয়েছে। আরও পড়ুন: কাতার, সৌদি ও আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ইরানের এতে তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর গ্যাসক্ষেত্র লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দেয়। কাতারও এই হামলার নিন্দা জানায়। দেশটি এক বিবৃতিতে বলে, জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করা পুরো অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঁচটি তেল স্থাপনার কাছের এলাকায় থাকা মানুষদের সতর্ক করে বলেছেন যে, তারা যেন দ্রুত সেই এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, সতর্কবার্তার পর রাতেই কাতার, সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। হামলায় কাতারের রাস লাফফান গ্যাসক্ষেত্র, আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাসক্ষেত্র ও বাব তেলক্ষেত্র এবং সৌদি আরবের দুটি তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আরও পড়ুন: উপসাগরীয় শহরগুলোতে হামলার দায় সম্পূর্ণ আমেরিকার: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেদন মতে, কাতার জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর তাদের রাস লাফফান গ্যাসক্ষেত্রে আগুন ধরে যায়। এতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একে হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের হাবশান গ্যাসক্ষেত্র বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।