পাবনার বড়াল ব্রিজ স্টেশনের কাছে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী আন্তঃনগর ‘সিল্কসিটি এক্সপ্রেস’ ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু ও চিকিৎসকসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বড়াল ব্রিজ স্টেশনে প্রবেশের আগে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় রেলওয়ের হটলাইন বা দায়িত্বরত কর্মীদের কাছ থেকে কোনো জরুরি সহায়তা পাননি তারা। আহতরা হলেন, চিকিৎসক হাবিবুল আউয়াল, ফার্মাসিস্ট শফিকুল ইসলাম, ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, কাউসার আলী, জিয়াউর রহমান ও তিন বছরের শিশু রায়ান। তারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন। আহত ও সংশ্লিষ্টরা জানান, আহতরা রাজশাহীগামী সিল্কসিটি ট্রেনের ‘ঘ’ বগিতে ছিলেন। সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে ট্রেনটি পাবনার বড়াল ব্রিজ স্টেশনে প্রবেশের আগে পাথর নিক্ষেপে একটি জানালায় বিকট শব্দ হয়। এসময় জানালার কাচ ভেঙে ট্রেনের কামরার ভেতরে ছিটকে পড়ে। এসময় কাচের ভাঙা টুকরার আঘাতে এক শিশুসহ ছয়জন আহত হন। এ ব্যাপারে আহতদের একজন হাবিবুল আউয়াল জানান, আহত ব্যক্তিদের অনেকেরই বেশ ব্লিডিং (রক্তপাত) হয়েছে। সেসময় নানাভাবে রক্তপাত বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। যারা ছোটোখাটো আহত হয়েছেন, তাদের রক্তের দাগ শুকিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ক্ষত হয়ে আছে। এমন ঘটনার পর সহযোগিতা চেয়েও রেল কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া মেলেনি জানিয়ে তিনি জানান, রেলের কল সেন্টার ১৩১ নম্বরে বারবার ফোন দিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া ৯৯৯ নম্বরেও ফোন করা হয়। সেখান থেকে ১৩১ নম্বরে ফোন করার পরামর্শ মেলে। ট্রেনের টিকিটে দেওয়া হটলাইন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন কেটে দেওয়া হয়। এছাড়া ট্রেনের ক্যাটারিং সার্ভিসের এক কর্মীকে রেলওয়ে পুলিশ ও গার্ডকে (পরিচালক) বিষয়টি জানানোর অনুরোধের প্রায় ২০ মিনিট পর রেলওয়ে পুলিশের একজন সদস্য আসেন। তিনি আরেকজনের ওপর দায়িত্ব দিয়ে চলে যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিল্ক সিটি ট্রেনে গার্ডের দায়িত্বে থাকা মশিউর রহমান জানান, ট্রেনটি নিরাপদে রাজশাহী পৌঁছেছে। পথে পাথর নিক্ষেপের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। কেউ জানাওনি। আলমগীর হোসাইন নাবিল/কেএইচকে/এমএস