প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। দল পুনর্গঠনে জোর বিএনপির - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। তবে নির্বাচন-পরবর্তী মাঠের রাজনীতিতে দলটিতে কিছুটা ‘স্থবিরতা’ দেখা দিয়েছে। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের বেশির ভাগই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের অনেকে দলের প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। আবার অনেক নেতাকে করা হয়েছে প্রশাসক। ফলে মাঠের রাজনীতিতে এক ধরনের নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। আবার রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় দলের নেতাকর্মীদের অনেকে ঝিমিয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের অনেকে বলেছেন, ঈদের ছুটিতে দলের নেতাদের মধ্যে সাংগঠনিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হতে পারে। ঈদের ছুটিতেও তেলের জন্য দীর্ঘ সারি, ভোগান্তি - দৈনিক সমকালের শেষ পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটির মধ্যেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল নিতে ভোগান্তি কমেনি। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে অনেক পাম্পে দীর্ঘ লাইন, বিলম্বিত সরবরাহ এবং অনিশ্চয়তার কারণে চালকদের ভোর থেকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর– রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উত্তরা আবদুল্লাহপুর, মালিবাগ, মোহাম্মদপুর ও কাকলী এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। কোথাও লাইনের শেষ প্রান্ত মূল সড়ক ছাড়িয়ে পাশের সড়কে গিয়ে ঠেকেছে। এতে শুধু চালকদের ভোগান্তিই নয়, আশপাশের সড়কে যান চলাচলেও ধীরগতি তৈরি হয়েছে।সিলেটে ঈদে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব - দৈনিক মানবজমিনে শেষ পাতায় প্রকাশিত খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার প্রবাসী পরিবারে উৎকণ্ঠা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সিলেটে মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে অস্বস্তি। সিলেটের শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। ইউরোপ, আমেরিকার চেয়ে বেশি সংখ্যক শ্রমিক বসবাস করে ওই মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, সৌদিসহ বিভিন্ন দেশে। শ্রমিকের পাশাপাশি অনেক বিনিয়োগকারীরাও ব্যবসা খুলেছে এসব দেশে। ইরান, ইসরাইল ও আমেরিকা যুদ্ধের মিসাইলে তছনছ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ। এই অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসীরা। পড়েছেন আর্থিক সংকটে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডেরা দুবাইয়ে বসবাসকারী কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জানিয়েছেন- প্রতি বছর রমজানে তারা কয়েক কোটি টাকার ট্রেডিং করতেন। কিন্তু এবার রমজানের শুরুতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মিসাইল পড়েছে ডেরা দুবাইয়েও। এতে করে প্রবাসীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। চুরি ছিনতাই ঠেকানোই বড় চ্যালেঞ্জ - দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতায় প্রকাশিত সংবাদ এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে অসংখ্য অপরাধ সংঘটিত হয়। এ সময় নাড়ির টানে গ্রামে যায় রাজধানীবাসীর একটি বড় অংশ। ফলে ঈদের আগে-পরে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায় রাজধানী। আর সেই সুযোগে বেপরোয়া হয়ে ওঠে পেশাদার ছিনতাইকারী ও চোররা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘটে ছিনতাই, দুর্ধর্ষ চুরি-ডাকাতি। ফলে ঈদে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যারা যান, তাদের চিন্তার বিষয় হয় বাসার চুরি-ডাকাতি নিয়ে। রাজধানীতে চুরি-ছিনতাই-দস্যুতার মামলার পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) তেজগাঁও, মতিঝিল, উত্তরা, রমনা বিভাগ বেশি অপরাধপ্রবণ। ডিএমপি সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আটটি বিভাগে ১ হাজার ৫৯১টি চুরির মামলা হয়েছে। একই সময়ে ৫৭৬টি ছিনতাই ও দস্যুতার মামলা হয়েছে। এছাড়া ডাকাতির ৫৩টি ও খুনের ৪৩৯ মামলা হয়েছে।দাম বাড়ছে কয়লার খরচ বাড়বে বিদ্যুৎ কেন্দ্রেরও - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মূল্যবৃদ্ধির পর কয়লার দামও বাড়তে শুরু করেছে। বতর্মানে ইন্দোনেশিয়ান কোল ইনডেক্স অনুযায়ী, টনপ্রতি কয়লার দাম ৭৩ ডলারের কাছাকাছি, যা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরু হওয়ার আগে ছিল ৬৭ ডলার। অর্থাৎ গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে এ কয়লার প্রায় ৯ শতাংশ দাম বেড়েছে। পাশাপাশি জাহাজের ফ্রেইট বেড়েছে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। সেই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী জাহাজের প্রিমিয়াম চার্জও। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ২৬ শতাংশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে মূলত আমদানিনির্ভর জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে এ বড় সক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানি কয়লার ব্যবহার বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।