সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ীতে যাত্রীচাপ, ২০০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০০

রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। সেখানকার সড়কগুলোতে দেখা গেছে গাড়ির জন্য অপেক্ষমান মানুষের আনাগোনা ও জটলা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকে ব্যাগ ও মালপত্র নিয়ে ছুটছেন এদিক-ওদিক। বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের অভিযোগ, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে দূরপাল্লার বাসগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।  তবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলছেন, সারা বছর নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নেওয়া হয়, এখন নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখতে সভায় বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে ঈদ হবে শনিবার। সরেজমিনে সকাল থেকে সায়েদাবাদের জনপথ মোড়, এটিএম হায়দার সড়কসহ আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের ভিড়। নির্দিষ্ট গাড়ির জন্য অনেকেই সড়কের পাশে অপেক্ষা করছেন। আরও পড়ুনমহাখালী টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, টিকিটের লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষা বুধবার রাতে রাজধানীতে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় বাস টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কর্দমাক্ত হতে দেখা গেছে। এতে মালপত্র নিয়ে যাত্রীদের চলাচল ও বাসে ওঠানামায় বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অন্যদিকে, সায়েদাবাদ হয়ে যাত্রাবাড়ীর দিকে যাওয়ার সড়কে প্রচণ্ড যানজট দেখা গেছে। বাসে উঠতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। সায়েদাবাদ টার্মিনালের ভেতরে ও প্রবেশমুখের দুই পাশের সড়কে কাঁদা-পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। সায়েদাবাদ রেল গেটের পশ্চিম পাশের টার্মিনালে কথা হয় মো. দুলালের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি কুমিল্লা যাবো। ভাড়া সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। অন্য সময় ১০০ বা ১৫০ টাকায়ও নেয়। আজ ভাড়া নিচ্ছে ৩০০ টাকা।  কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী তিশা পরিবহনের একজন কর্মীকে ৩০০ টাকা করে ভাড়ায় যাত্রীদের ডাকতেও দেখা গেছে। আবার তিশা পরিবহনের কোনো কোনো বাসকে কুমিল্লার ভাড়া ৪০০ টাকা নিতেও দেখা গেছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিশা পরিবহনের লাইনম্যান মো. আজাদ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভাড়ার তালিকা তুলে ধরে বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া ২৯০ টাকা। আমরা মাত্র ১০ টাকা বেশি নিচ্ছি। কারণ, যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে ফেরার সময় পুরো গাড়িটা খালি নিয়ে আসতে হয়। সায়েদাবাদে বরিশালগামী বাসের সংকট রয়েছে বলে সেখানকার পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন। রাজধানীতে চলাচলকারী দু-একটি লোকাল বাসকে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বরিশাল রুটের যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। আরও পড়ুনকমলাপুরে মানুষের ঢল, ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই গাজীপুর-পোস্তগোলা রুটে চলাচলকারী রাইদা পরিবহনের বিভিন্ন বাস বরিশালে যাত্রী পরিবহন করছে। যাত্রীপ্রতি ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। যাত্রীরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ে এ ধরনের বাসে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা ভাড়া নেয়। শামীম হাসান সপরিবারে নোয়াখালী যাবেন। জোনাকি সার্ভিসের কাউন্টারের সামনে কথা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, কাঁদা-টাদা পার হয়ে আসতে একটু কষ্ট হয়েছে। ভাড়াটাও একটু বেশি চাচ্ছে কেউ কেউ। দেখছি, দেখেশুনে একসঙ্গে উঠে যাবো। জনপথ মোড়ে বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট বিক্রয় কর্মী মোহাম্মদ আলী বলেন, আজ যাত্রীচাপ বেশ ভালো। সকাল থেকেই যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রী যেমন আছে গাড়িও আছে, তাই তেমন সমস্যা হচ্ছে না। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় মাদারীপুর-শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী গাড়িগুলোর কাউন্টারের সামনেও ঘরমুখো মানুষের ভিড় চোখে পড়েছে। ভিড় দেখা গেছে ধোলাইপাড়ের বাস কাউন্টারগুলোর সামনেও। আরএমএম/এমকেআর