ঈদুল ফিতর আসন্ন। রমজান শেষে মুসলমানগণ ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক বিশেষ নেয়ামত। যা মুমিনদের জন্য দীর্ঘ সিয়াম সাধনার প্রতিফল এবং পুরস্কার স্বরূপ।ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। চলছে কেনাকাটা ও শপিং। ঈদ উপলক্ষে আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ আয়োজন থাকে। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে থাকে বেতন ও বোনাস। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে থাকে ঈদের কেনাকাটা। তবে মনে রাখতে হবে, ঈদুল ফিতরে মুমিনদের জন্য রয়েছে শরিয়াহ নির্দেশিত বিশেষ অর্থনৈতিক বার্তা। প্রথম বার্তা: সদকাতুল ফিতর আদায় করা সদকাতুল ফিতর ইসলামের সামাজিক সহমর্মিতা ও অর্থনৈতিক সাম্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি ধনী গরীব সকলের মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার অনন্য ব্যবস্থা। প্রিয়নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সদকাতুল ফিতর রোজাদারের জন্য অনর্থ ও পাপের ক্ষতিপূরণ আর দরিদ্রদের জন্য মেহমানদারি। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১৬১০) তাই ঈদুল ফিতরে মুমিনের প্রথম অর্থনৈতিক করণীয় হলো, সর্বোত্তম পন্থায় সদকাতুল ফিতর আদায় করা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক ঘোষিত এ বছরের সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ গমের মূল্য হিসাবে সর্বনিম্ন ১১৫ টাকা। এছাড়া যব, কিসমিস, খেজুর ও পনিরের মূল্য হিসাবে পর্যায়ক্রমে ৩৯৬, ১৬৫০, ১৯৮০ ও ২৬৪০ টাকা। আরও পড়ুন: শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে কি জাকাত আদায় হয়? ঈদুল ফিতরে আমাদের উচিত, প্রচলিত নিয়মে ফিতরার সর্বনিম্ন হার না ধরে যথাসাধ্য উচ্চ হারে আদায় করা। গমের মূল্য না ধরে যব, খেজুর, কিসমিস কিংবা পনিরের মূল্যে জনপ্রতি সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা। যেনো একটি ধনী পরিবারের আদায়কৃত সদকাতুল ফিতর অন্য একটি দরিদ্র পরিবারের ঈদের নূন্যতম অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণে যথেষ্ট হয়। দ্বিতীয় বার্তা: ঈদের কেনাকাটায় অপচয় না করা ঈদ উপলক্ষে পরিবার-পরিজনের জন্য সাধ্য মোতাবেক পোশাক-আশাক কেনা, ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা এবং আনন্দ ভাগাভাগি করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ ও প্রশংসনীয়। কিন্তু ইসলাম এই ব্যয়ের ক্ষেত্রেও নৈতিকতার একটি সুষম পথ নির্দেশ করে। ইসলাম অপচয়কে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করে। তাই ঈদের কেনাকাটায় অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা বা সামাজিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া একজন মুমিনের জন্য শোভন নয়। অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ কেবল অন্যদের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সামর্থ্যের বাইরে ব্যয় করে, এমনকি ঋণগ্রস্তও হয়ে যায়। যা কোনভাবেই বৈধ নয়। এ ধরনের অন্যায় প্রতিযোগিতা ঈদের বারাকাহ নষ্ট করে এবং ঈদের প্রকৃত আনন্দকে ব্যাহত করে। অতএব, ঈদুল ফিতর কেবল উৎসবের দিন নয়; এটি মুমিনের অর্থনৈতিক নৈতিকতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণিকা। যখন একজন মানুষ নিজের আনন্দের পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র মানুষের কথা মনে রাখে, সামর্থ্যের মধ্যে থেকে ব্যয় করে এবং অপচয় থেকে বিরত থাকে, তখনই ঈদের প্রকৃত আনন্দ প্রতিটি পরিবার ও সমাজে বাস্তব রূপ লাভ করে।