ভেঙে পড়া সেতুতে চলা দায়, জিকে ক্যানালে নতুন ব্রিজ হবে কবে?

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ, ভেঙেপড়া ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও যানবহন চলাচল করছে। ব্রিজটি বেশ কয়েক বছর আগেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কিন্তু নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনও হয়নি। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।জানা যায়, প্রায় ৪৫ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার জেহালা ইউনিয়নের বড়পুটিমারি গ্রামে জিকে ক্যানালের ওপর ব্রিজ নির্মাণ করে। প্রায় ৬-৭ বছর আগে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় পথচারী ও ছোট যানবাহন কোনো রকমে ঝুঁকি নিয়ে চললেও, বর্তমানে ব্রিজটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।চুয়াডাঙ্গার বড়পুটিমারি গ্রামের ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণে উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। নতুন ব্রিজ নির্মাণ ২০২৪ সালের ৫মে শুরু হওয়ার কথা থাকলের ২২ মাসেও কাজ শুরু হয়নি। যার ফলে প্রতি নিয়ত দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ মানুষ। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৬ সালের ৫ মে। বর্তমানে জিকে সেচ ক্যানালে পানি থাকায় দুই মাসে ব্রিজ নির্মাণ সম্ভব হবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।আরও পড়ুন: ছয় মাস ধরে ভেঙে পড়ে আছে সেতু, ভোগান্তিতে পঞ্চগড়ের ১০ গ্রামের মানুষসূত্র জানায়, উইকেয়ার প্রকল্পের আওতায় বড়পুটিমারি গ্রামে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যর পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ হওয়ার কথা রয়েছে। যশোরের মইনুদ্দিন বাঁশি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করার কথা রয়েছে। ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী না থাকায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষকে ৪-৫ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জিকে ক্যানালের ব্রিজটি ৬-৭ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও যানবহন চলাচল করছে। ছবি: সময় সংবাদস্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রিজটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে, ভ্যানে চলাচল করছে। ব্রিজের এক পাশের সামনে ভেঙে গেছে।’আরও পড়ুন: ‘গোমতি সেতু এমনভাবে কাঁপে যে স্টিয়ারিং ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যায়’আলমডাঙ্গা ঘোলদাড়ি গ্রামের আবুল কাশেম জানান, এলজিইডি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের দুদিকে সাইন বোর্ড টানিয়ে তাদের দায় সারার চেষ্টা করেছে। নতুন ব্রিজ শুরুর ব্যাপারে কোনো গা নেই। দুর্ঘটনা ঘটলে এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে দায় নিতে হবে।চুয়াডাঙ্গা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. আসানুল হক বলেন, ‘ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আমরা বলেছি। ধীরগতিতে কাজ হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ক্যানালে পানি থাকায় কাজ শুরু হচ্ছে না।’আলমডাঙ্গার বড়পুটিমারি ব্রিজ দিয়ে আগে প্রতিদিন ট্রাক, লেগুনা, আলমসাধুসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় ৩০০ যানবাহন ও ১৫ হাজার মানুষ চলাচল করতো।