সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন

ড. এম শামসুল হক। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক। তিনি ঢাকার মেট্রোরেল ও হাতিরঝিল প্রকল্পসহ অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করেছেন। নগরে গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন শামসুল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মুসা আহমেদ। জাগো নিউজ: গণপরিবহন নিয়ে আপনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। ঢাকার গণপরিবহনে এত বিশৃঙ্খলা কেন বলে মনে করেন? শামসুল হক: ঢাকার গণপরিবহনে অনেক সমস্যা আছে। আসল সমস্যা তো অন্য জায়গায়। আমাদের অনেক কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে, যা বিগত সময়ে করা হয়নি। যেমন, লন্ডনের রাস্তা তেমন চওড়া না। তবুও সেখানে যানজট নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে দীর্ঘদিন থেকেছেন, তিনি তা দেখেছেন। সেখানে গণপরিবহনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জাগো নিউজ: ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করতে প্রধানমন্ত্রী আপনাকে সচিবালয়ে ডেকে পাঠিয়েছেন। তার সঙ্গে কী কী কথা হয়েছে? শামসুল হক: নগরে গণপরিবহন সমস্যাটা কোথায় তা সরকার জানে। আর তারা তা জানে দেখেই আমাদের ডেকে পাঠিয়েছেন। এখন তারা এ সমস্যার ফলপ্রসূ সমাধান চান। তবে ডেফিনেটলি আগের মতো করলে কোনো সলিউশন হবে না। মানুষ হতাশ হবে। ডেফিনেটলি বর্তমান সরকার মানুষকে হতাশ করবে না। প্রধানমন্ত্রী গণপরিবহনে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছেন। গণপরিবহনকে জায়গা করে দিতে হবে। সাক্ষাৎকালে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, দরকার হলে চার লেনের রাস্তাকে দুই লেন করে দেওয়া হবে। বাকি দুই লেন পথচারীদের জন্য ফুটপাত করে দেওয়া হবে।   আরও পড়ুন আব্দুল্লাহপুর ফ্লাইওভারের ওপরেও বাসস্টপ, ঝুঁকির মুখে যাত্রীরাঢাকার সড়কের ‘বিষফোড়া’ ব্যাটারিচালিত রিকশাকোমর না বাঁকিয়ে চলতে পারে না ঢাকার বাসবিগত সময়ে সরকারগুলো নগরে যেভাবে কাজ করেছে, সেভাবে যদি গতানুগতিক কাজ হয়, তাহলে ওই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, তিনি নগরের এ সমস্যা একেবারে সমাধান করে ফেলবেন, এমনটা নয়। তিনি ধাপে ধাপে কাজ করতে চান। এটি করলে টেকসই সমাধান হবে। প্রধানমন্ত্রী লন্ডনের মতো ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা করতে চান। সরকার গঠনের পর নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতে চান। উনি (প্রধানমন্ত্রী) যেহেতু ১৬ বছর লন্ডনে ছিলেন, গণপরিবহনটা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তবে দেশে ফিরে তিনি খুব আহত হন যখন জনগণের গণপরিবহনের অ্যাক্সেসটা দেখেন খুব সীমিত। তাই সামগ্রিকভাবে গণপরিবহনের উন্নতি কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাগো নিউজ: ঢাকায় গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উপায় কী? শামসুল হক: বর্তমান সরকার প্রধানকে বলেছি, সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কার করতে হবে। সব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। স্পেশালাইজড ডিপার্টমেন্ট খুলতে হবে। যদিও যানজট নিরসন বা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো প্রধানমন্ত্রীর কাজ না। এখানে সরকারের সংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারের ইনস্টিটিউশনগুলো ডিসফাংশনাল। অন্য দেশে এগুলো সক্রিয় থাকে। তারা নগর যানজট নিরসনসহ পথচারীদের বিষয়গুলো দেখেন। যখন কোনো বড় সিদ্ধান্তের দরকার হয়, তখন বিষয়টি সরকার পর্যন্ত যায়।  এখানে (বাংলাদেশে) যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেগুলো অক্ষম। এসব প্রতিষ্ঠানে আবার নন-টেকনিক্যাল ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যে কারণে সমস্যাটা পুঞ্জীভূত হয়ে গেছে। এ অবস্থায় টেকনিক্যাল লোক দিয়েও তা সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে নজর দিতে হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সারা পৃথিবীতে সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের জন্য কাজ করে। এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ওই দিন সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রেলকে অগ্রাধিকার দেবেন। এটা হচ্ছে প্রাইম মিনিস্টার পর্যায়ের কথা। এ বিষয়ে তিনি পরিকল্পনা নিতে পারেন, কথা বলতে পারেন। কিন্তু যানজট নিরসন, ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয় প্রধানমন্ত্রী কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। এখানে সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এটি তাদের কাজ। তাই কাঠামোগত সংস্কার না করে, আন্দাজে কাজ করা যাবে না। এখন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যেকটা দুর্বল। এজন্য কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি। এ পরিবর্তন হলে এগুলোকে বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিচালনা করা যাবে। জাগো নিউজ: আপনাকে ধন্যবাদ। শামসুল হক: জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ। এমএমএ/এএসএ/এমএফএ