ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে অন্তত ৩০ কিলোমিটারজুড়ে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। এতে যানজটে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। যানজটের ফলে যমুনা সেতু দিয়ে দেড় ঘণ্টা একমুখী যানবাহন চলাচল করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোর থেকে মহাসড়কের যমুনা সেতু থেকে করটিয়া পর্যন্ত এলাকাজুড়ে থেমে থেমে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে যানজট নিরসনে মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, মহাসড়কে দীর্ঘ যানবাহনের চাপের কারণে যমুনা সেতু দিয়ে বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত শুধু উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচল করেছে। এ সময় ঢাকাগামী যানবাহন বন্ধ রাখা হয়। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত যমুনা সেতুর ওপর প্রায় ১৭টি গাড়ি বিকল হয়ে যায় এবং স্টার্ট বন্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া সেতুর ওপর গাড়ি থামিয়ে অনেকে ঝগড়া করেছেন। এর ফলে মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, মহাসড়কে মানুষের ব্যাপক চাপ রয়েছে। থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে। পরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে যাতায়াত করছেন। এছাড়া কেউ কেউ ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকার ও নিজস্ব মোটরসাইকেলেও গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। যানজট নিরসনে পুলিশকে বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। বাসযাত্রী তারেক মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আগে দিয়ে ঈদ করতে বাড়ি গাইবান্ধায় যাচ্ছি। চন্দ্রা থেকে আমাদের টাঙ্গাইল সীমানায় আসতে ৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে। এমন যানজটের কারণে সব মিলিয়ে বাড়ি যেতে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা লাগবে। অন্য সময়ে ৬ ঘণ্টায় গাইবান্ধায় যাওয়া যায়। বাসযাত্রী সেলিম মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত আসতে আমাদের ৩ ঘণ্টা সময় লেগেছে। অন্য সময়ে মাত্র দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। এতে ঈদে ঘরমুখো সকল মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। ট্রাকচালক মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, রাত ৩টা থেকে যানজট শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্তও যানজটে আটকা রয়েছি। এতে আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। বাসচালক ইছাক জাগো নিউজকে বলেন, চন্দ্রা থেকে যানজট শুরু। এখনো যানজটে আটকা রয়েছি। সরকারের কাছে ঈদযাত্রা যানজটমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি করছি। এদিকে যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ হাজার ৫৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, অতিরিক্ত গাড়ির কারণে সেতু দিয়ে একমুখী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেতুর ওপর বারবার গাড়ি বিকল হচ্ছে। বিকল হওয়া গাড়িগুলো সরিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এরমধ্যে দুই পাশে দুটি করে বুথ দিয়ে আলাদাভাবে মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক টোল বুথ চালু রাখার চেষ্টা করছি। আব্দুল্লাহ আল নোমান/আরএইচ/এএসএম