যমুনা সেতুতে সাড়ে তিন কোটি টাকা টোল আদায়

ঈদের ছুটিতে রাজধানী ছাড়ছে উত্তরের ঘরমুখো মানুষ। ফলে উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কে যানবাহনের চাপ প্রায় তিনগুণ বাড়লেও বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেল ৪টা নাগাদ কমতে শুরু করেছে। এর আগে রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত যমুনা সেতুর ওপর ১৫টি গাড়ি বিকল হয়। এতে সেতুর পূর্ব প্রান্তে প্রায় ২৫ কিলোমিটার জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সকাল ১১টা ৪০ মিনিট থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত সেতু একমুখী (ওয়ানওয়ে) করে দুই লেন দিয়ে যানবাহন উত্তরবঙ্গের দিকে পার করানো হয়। এতে সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে যান চলাচল স্বাভাবিকে রূপ নেয়। সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১ হাজার ৫৮৪টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে এবং এতে তিন কোটি ৪৩ লাখ ১১ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। যার মধ্যে শুধু পূর্ব প্রান্ত দিয়েই পার হয়েছে ৩২ হাজার ৮৪০টি গাড়ি। যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১৭ থেকে ২২ হাজার যানবাহন সেতু পার হলেও এখন সেই সংখ্যা প্রায় তিনগুণ হয়ে গেছে। সপ্তাহব্যাপী ঈদের ছুটি হওয়ায় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নেমেছে। সেই সঙ্গে পোশাক শ্রমিকরা বুধবার থেকে রওনা হওয়ায় এদিন রাত থেকেই চাপ বেড়েছিল। এখন সেটা কমতে শুরু করেছে। এদিকে ঈদযাত্রার এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে সিরাজগঞ্জের উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রদানে ৭৮০ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। যার মধ্যে ১৪৪ জন হাইওয়ে পুলিশের সদস্য। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এবার ঈদযাত্রায় যানবাহন চলাচল এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। তবে রাতে চাপ একটু বেশি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা কমে যাচ্ছে। সাসেক-২ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মাহাবুবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, উত্তরে গাড়ির চাপ বাড়লেও যাত্রী ভোগান্তি এবার হয়নি। এমন স্বস্তির কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, আগে হাটিকুমরুল গোলচত্বর যানবাহন এসে বিভিন্ন রুটে ভাগ হয়ে যেতো। আর এতে সৃষ্টি হতো তীব্র যানজট। কিন্তু এখন নির্মাণাধীন ইন্টারচেঞ্জ দিয়ে বগুড়া-রংপুর রুটের যাত্রীরা নতুন চারটি লেন এবং রাজশাহী ও পাবনা রুটের যাত্রীরা দুই লেনের সুবিধা ব্যবহার করছেন। এছাড়া মহাসড়কে ১১টি উড়াল সেতু চালু রয়েছে। ফলে উত্তরের মানুষ দুর্ভোগ ছাড়াই তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। এম এ মালেক/আরএইচ/এএসএম