ঘরোয়া ক্রিকেট মৌসুম শুরুর আগেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। বহুল ব্যবহৃত ডিউকস বলের সংকট তৈরি হওয়ায় নতুন মৌসুমে মাত্র অর্ধেক সরবরাহ নিয়েই শুরু করতে হচ্ছে প্রতিযোগিতা।আগামী ৩ এপ্রিল শুরু হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া মৌসুম। যেখানে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপসহ সব প্রতিযোগিতায় ডিউকস বল ব্যবহৃত হয়। জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ বল হাতে রয়েছে কর্তৃপক্ষের। ডিউকস বল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ ক্রিকেট বলস লিমিটেডের মালিক দিলীপ জাজোদিয়া সরাসরি এই সংকটের জন্য চলমান গালফ অঞ্চলের সংঘাতকে দায়ী করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের কারণে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে যাতায়াত করা সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। জাজোদিয়া বলেন, ‘এই গালফ যুদ্ধের পরিস্থিতি আমাদের বড় সংকটে ফেলেছে। মৌসুমের শুরুতে ক্লাবগুলোকে মাত্র ৫০ শতাংশ বল দিতে হচ্ছে, এরপর পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। উপমহাদেশে আমাদের কারখানায় অনেক বল প্রস্তুত আছে, কিন্তু পরিবহন জটের কারণে সেগুলো আনা যাচ্ছে না।’ আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে শাহরুখের ‘নাইট রাইডার্স’ স্টেডিয়াম, নজর এখন অলিম্পিকে পরিবহন খরচও বেড়েছে কয়েক গুণ। আগে যেখানে প্রতি কেজি পণ্য পরিবহনে প্রায় ৫ ডলার খরচ হতো, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ ডলারে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক এয়ারলাইন্স পণ্য পরিবহনে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছে। একটু রসিকতার সুরে জাজোদিয়া বলেন, ‘যদি আগে জানতাম এমন হবে, তাহলে ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতাম যেন ক্রিকেট মৌসুম শুরুর আগে কেউ কাউকে আক্রমণ না করে!’ আরও পড়ুন: পড়াশোনায় নয়, ক্রিকেটেই শ্রেষ্ঠত্ব—অধিনায়ক সূর্যকুমারের অনন্য সাফল্যের গল্প ডিউকস বল তৈরির প্রক্রিয়াও বেশ জটিল। ব্রিটিশ গরুর চামড়া প্রথমে ইংল্যান্ডের চেস্টারফিল্ডে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এরপর সেটি দক্ষিণ এশিয়ায় পাঠানো হয়, যেখানে দক্ষ কারিগরেরা হাতে সেলাই করে বল তৈরি করেন। পরে সেগুলো আবার যুক্তরাজ্যে এনে চূড়ান্ত প্রস্তুতির পর বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সরবরাহ করা হয়। এই জটিল সরবরাহ চেইন যুদ্ধের প্রভাবে ব্যাহত হওয়ায় ইংল্যান্ডের আসন্ন মৌসুমে প্রস্তুতি ও ম্যাচ পরিচালনায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।