পঞ্চগড়ের স্টেশন এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে ‘মেহেদী উৎসব’

রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বসে মেহেদির রঙে রাঙিয়ে দেয়া হচ্ছে শিশুদের হাত। ছোট আয়োজন হলেও, এতে বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে উঠেছে স্টেশন এলাকার আশপাশের সুবিধাবঞ্চিত দুই শতাধিক শিশু।পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঈদকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনব্যাপী মেহেদির রঙে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে মেহেদী উৎসবের আয়োজন করে একদল তরুণ তরুণী। পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন এলাকার আশপাশের সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাঁধভাঙা আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে শিশুরা।হাত রাঙিয়ে নিতে আসা শিশু নুর-এ জান্নাত নৌসিন ও আফরোজা তাহসিন সময় সংবাদকে বলেন, ‘আপুরা আমাদের হাতে মেহেদী দিতে এসেছে। আমরা সব বান্ধবী ও বোনরা মিলে মেহেদী মাখার পাশাপাশি অনেক আনন্দ করছি। এখানে মেহেদীর পাশাপাশি সালামিও দিচ্ছে। আমরা চাই এমন আয়োজন প্রতিবছর হোক।’জানা গেছে, স্ট্যান্ড ফর চেঞ্জ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের আয়োজনে ও পঞ্চগড় জেলা স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। আর এই আয়োজনের মাধ্যমে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আনন্দ দিতে পেরে খুশি আয়োজক সহ অংশগ্রহণকারী তরুণীরা।অংশগ্রহণকারী তরুণীরা সময় সংবাদকে বলেন, ‘এখানে এসে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। শিশুদের ভালোলাগা ও আবেগ খুব কাছ থেকে দেখছি। আমরা তাদের পছন্দমত মেহেদী রাঙিয়ে দিচ্ছি। বিষয়টি খুব ভালো লাগছে এবং আমরা সবাই খুব ইনজয় করছি।’আরও পড়ুন: ঈদে বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্য ঠেকাতে পঞ্চগড়ে মাঠে সেনাবাহিনীস্ট্যান্ড ফর চান্স ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রিফা তামান্না সময় সংবাদকে বলেন, ‘আমাদের এই সংগঠন বিভিন্ন সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত। প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের কাছে গিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করছি। এবারও তাদের হাত ঈদ উপলক্ষে রাঙিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ঈদ সালামি ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করি সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার, তাই আগামীতেও এ ধরনের আয়োজনের পাশাপাশি সামাজিক আয়োজন আমরা জেলা জুড়ে করে যাব।’পঞ্চগড় জেলা স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সমন্বয়কারী এডভোকেট আহসান হাবিব সময় সংবাদকে বলেন, ‘আমরা সহযোগী হিসেবে এই উৎসবে কাজ করছি। শুধু সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের না, সুবিধাবঞ্চিত অসহায় সব ধরনের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছি আমরা। যেহেতু একদিন পরেই ঈদ তাই আজকের এই আয়োজনে শিশুদের আনন্দ দিতে পেরে আমরা নিজেরাও আনন্দিত।’জানা গেছে, ঈদকে ঘিরে প্রতিবছরের মতো ৬ষ্ঠ বারের মত এই আয়োজন করা হয়েছে। মেহেদী উৎসবে শিশুদের হাত রাঙ্গিয়ে দেয়ার পাশাপাশি ঈদ সালামি ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।