বিশ্বজুড়ে প্রতিবছরই দ্রুত হারে বিলুপ্ত হচ্ছে নানা প্রাণী। এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সংরক্ষণবিদদের মধ্যে। সেই উদ্বেগ থেকেই বিরল প্রাণী নিয়ে গবেষণা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার হয়েছে। এমনই এক বিস্ময়কর উদাহরণ ‘ওন্ডিওয়োই ট্রি ক্যাঙ্গারু’— এটি এতটাই দুর্লভ প্রজাতি, যাকে প্রায় ৯০ বছর দেখা যায়নি। ফলে একসময় বিজ্ঞানীরা ধরে নিয়েছিলেন, প্রাণিটি হয়তো চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।বিলুপ্ত নয়, ফিরে আসা এক বিস্ময়‘ওন্ডিওয়োই’ নামটি এসেছে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম পাপুয়ার দুর্গম ওন্ডিওয়োই পর্বতমালা থেকে, যেখানে এই গাছবাসী ক্যাঙ্গারুর বসবাস। বৈজ্ঞানিক নাম Dendrolagus mayri। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত উষ্ণমণ্ডলীয় পার্বত্য বনই তাদের আবাসস্থল।অত্যন্ত দুর্গম এলাকা ও সীমিত বিস্তৃতির কারণে এই প্রাণী দীর্ঘদিন মানুষের চোখের আড়ালে ছিল। ফলে টানা ৯০ বছর তাদের কোনো দেখা না পাওয়ায় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, প্রজাতিটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে জানা যায়— এই ট্রি ক্যাঙ্গারুগুলো দেখতে কিছুটা স্থূল ও ভালুকসদৃশ। শক্তিশালী সামনের পা, বাঁকানো নখর এবং লম্বা লেজ তাদের গাছে বসবাসে সহায়তা করে। তারা মূলত পাতা, ফল ও বিভিন্ন উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে। তবে পর্যবেক্ষণের অভাবে তাদের মোট সংখ্যা এখনো অজানা।আরও পড়ুন: আল জাজিরার এক্সপ্লেইনার /বিশ্বের সবচেয়ে বিপন্ন ভাষাগুলো কোন কোন এলাকায়?আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তালিকায় এদের ‘অতি বিপন্ন’ (Critically Endangered) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কীভাবে ‘বিলুপ্ত’ মনে করা হয়েছিল১৯২৮ সালে জীববিজ্ঞানী আর্নস্ট মায়ার প্রথম এই প্রাণিটির সন্ধান পান। তিনি একটি নমুনা সংগ্রহ করে লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে পাঠান। ১৯৩৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজাতিটি বর্ণনা করা হয়।এরপর দীর্ঘ সময় আর কোনো বিজ্ঞানী এই ক্যাঙ্গারুর দেখা পাননি। ছবি, ভিডিও বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাও পাওয়া যায়নি। ফলে ধীরে ধীরে ধারণা তৈরি হয়— প্রজাতিটি হয়তো বিলুপ্ত হয়ে গেছে, অথবা এতটাই বিরল যে চোখে পড়ে না।অবশেষে ২০১৮ সালে ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ মাইকেল স্মিথ প্রথমবারের মতো জীবিত ওন্ডিওয়োই ট্রি ক্যাঙ্গারুর ছবি তুলতে সক্ষম হন। এই আবিষ্কার নতুন করে আশা জাগায়— প্রাণিটি এখনো টিকে আছে এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরও গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে।সূত্র: ইয়াহু নিউজ ও এ-জেড অ্যানিমেলস