পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদা। সারা দেশে আজ এই দিনটি গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ইবাদত-বন্দেগি এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পালিত হবে।শুক্রবার (২০ মার্চ) পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদা। সারা দেশে আজ এই দিনটি গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ইবাদত-বন্দেগি এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পালিত হবে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। রমজানের বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে আসায় আজকের জুমা মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ আবেগময় ও তাৎপর্যপূর্ণ।আরবি ‘বিদা’ শব্দের অর্থ বিদায় বা শেষ। তাই ‘জুমাতুল বিদা’ বলতে রমজানের শেষ জুমাকে বোঝানো হয়। এটি কোনো স্বতন্ত্র ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদত না হলেও, এর ফজিলত ও গুরুত্ব রমজানের শেষ সময়ের বরকতের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। (সূরা আল-কদর: ১)রমজানের শেষ দশক বিশেষ করে লাইলাতুল কদরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই শেষ জুমা সেই মহামূল্যবান রাতগুলোর মধ্যেই আসে। এজন্য আলেমগণ বলেন, এই সময় ইবাদতের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় রমজানে সিয়াম পালন করে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি)আরেক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, তোমাদের নিকট রমজান এসেছে, এটি বরকতময় মাস… এতে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।(মুসনাদে আহমদ)বিশেষ করে জুমার দিনের গুরুত্ব সম্পর্কেও হাদিসে এসেছে, সূর্য উদিত হয় এমন দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম (সহিহ মুসলিম)রমজানের শেষ জুমা হওয়ায় আজকের দিনের গুরুত্ব দ্বিগুণ। এদিন মুসল্লিরা বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, দান-সদকা, জিকির-আজকার এবং তওবা-ইস্তিগফারে মনোনিবেশ করেন।ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, জুমাতুল বিদা আমাদের জন্য একটি আত্মসমালোচনার দিন। পুরো রমজান কেমন কাটলো, আমরা কতটুকু বদলাতে পারলাম—তা ভাবার সময় এটি। একই সাথে এটি ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে সংশোধনের অঙ্গীকার করার দিন।আজ জুমার নামাজের আগে দেশের বিভিন্ন মসজিদে খতিব ও আলেমরা জুমাতুল বিদার তাৎপর্য তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ খুতবা প্রদান করবেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হবে।রমজানের এই বিদায়ী মুহূর্তে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, অতীতের গুনাহের জন্য তওবা করা এবং জীবনের বাকি সময়কে দ্বীনের পথে পরিচালিত করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা। কারণ আমরা জানি না, এই রমজানই হয়তো আমাদের জীবনের শেষ রমজান।আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের বরকত অর্জন করার তাওফিক দান করুন এবং জুমাতুল বিদার এই পবিত্র দিনে আমাদের দোয়া কবুল করুন। আমিন।