ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যভূমি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বরগুনার অর্ধশত গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে এসব গ্রামের মুসল্লিরা ঈদের জামাতে অংশ নেন।শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নের মধ্য বকুলতলী গ্রামের মল্লিক বাড়ি জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বয়সি শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। একইভাবে বরগুনা সদর উপজেলার পাজরাভাঙ্গা, লাকুরতলা, গৌরীচন্নাসহ বিভিন্ন স্থানে ঈদ উদযাপিত হয়। সদর ও বেতাগী ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এই আগাম ঈদ পালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে: পাথরঘাটা উপজেলার হাতেমপুর; বেতাগী উপজেলার লক্ষ্মীপুরা ও কাজিরাবাদ; বামনা উপজেলার ছোনবুনিয়া; আমতলী উপজেলার গোজখালী এবং তালতলী উপজেলার নিদ্রা এলাকা। মধ্য বকুলতলী গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা মো. আবদুল গণী মল্লিক বলেন, ‘প্রায় ২০০ বছর আগে থেকে আমাদের এলাকার বাসিন্দারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। শুধু তাই নয়, একইভাবে এখানকার বাসিন্দারা ঈদুল আজহাও উদযাপন করেন। মূলত, ধর্মীয় সকল রীতি-রেওয়াজ, নিয়ম-কানুন সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখেই এখানে পালন করা হয়।’ আরও পড়ুন: ঈদের ছুটি: চাঙ্গা হবে পর্যটন অর্থনীতি, থাকছে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ইতিহাস টেনে তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ২০০ বছর আগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকার মির্জাখীল দরবার শরীফের নির্দেশে চান মিয়া ও কাশেম মৌলভী সাহেব এই এলাকায় এসে এমন ধর্মীয় নিয়ম-কানুন ও রীতি-রেওয়াজের প্রচলন করেন।’ ঈদ জামাতের ইমাম মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকেই আমাদের এখানে এমন ধর্মীয় রীতি চালু হয়েছে। সুদীর্ঘ বছর ধরে আমরা এভাবেই ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করে আসছি। আগে আমাদের লোকসংখ্যা বেশি থাকলেও বর্তমানে কিছুটা কমেছে।’