সারাদেশের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সরবরাহকৃত জলাতঙ্ক টিকার ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। টানা দুই মাস ধরে কোথাও মিলছে না এই টিকা। সুযোগ নিয়ে পাঁচশ টাকার ভ্যাকসিন ফার্মেসিতে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।মানিকগঞ্জ থেকে কুড়িগ্রাম, নোয়াখালী থেকে রাজশাহী, বরিশাল থেকে ঢাকা-দেশজুড়ে একই চিত্র। হাসপাতালের দেয়ালে ঝুলছে ‘টিকা নেই’ লেখা নোটিশ। কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরছেন, কিন্তু কোথাও মিলছে না প্রয়োজনীয় টিকা। মৃত্যু যেখানে অবধারিত, সেখানে জীবন রক্ষাকারী টিকারই দেখা না পাওয়ায় হতাশ রোগীরা। ভুক্তভোগীরা জানান, বিড়ালে কামড়ানোর পর চিকিৎসক ভ্যাকসিন নিতে বললেও কোথাও তা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খুঁজেও না পেয়ে কেউ কেউ ঢাকায় এসে খোঁজ করছেন। কিন্তু এখানেও একই অবস্থা। প্রেসক্রিপশন থাকলেও ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে তাদের। ফার্মেসি বিক্রেতারা জানান, কুকুর-বিড়ালের কামড়ের জন্য ব্যবহৃত এই ভ্যাকসিন এখন বাজারে নেই বললেই চলে। প্রতিদিন বহু মানুষ খোঁজ করছেন, কিন্তু সরবরাহ না থাকায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পাঁচশ টাকার টিকা এখন অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। রোগীরা অভিযোগ করছেন, ফার্মেসিতে গেলে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। আর হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে। আরও পড়ুন: নাগালের বাইরে অ্যান্টিবায়োটিক-ইনসুলিনসহ অন্যান্য ওষুধের দাম, নেপথ্যে কী? ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিনামূল্যে সরকারি টিকা প্রদান প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। নিজস্ব তহবিল থেকে টিকা কেনার উদ্যোগ নেয়া হলেও টেন্ডারে কেউ অংশ নেয়নি। ফলে সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মাঠ পর্যায়ে টিকার বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় খুবই কম। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে চান না। তবে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ বলেন,সংকট কাটতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে। বিকল্প ব্যবস্থা না নিয়েই প্রকল্প বন্ধ করায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। টিকা সরবরাহ ও অর্থ বরাদ্দ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও স্পষ্ট। স্বাস্থ্য অধিদফতর ও জাতীয় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বক্তব্যেও মিল পাওয়া যাচ্ছে না। জাতীয় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তানজিনা জাহান বলেন, তাদের কাছে রোগীদের দেয়ার মতো টিকা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দিলে মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তাই নির্ধারিত ডোজ সম্পন্ন করা জরুরি। দ্রুত টিকার সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।