ঈদের ছুটিতে ঝিমিয়ে পড়া কক্সবাজারে প্রাণ ফেরার অপেক্ষা

সিয়াম সাধনার মাস শেষে দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। আর এই ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ১০ দিনের দীর্ঘ এক ছুটি। এই বিশাল অবসরকে রাঙিয়ে তুলতে যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে নাড়ির টানে যেমন মানুষ বাড়ি ফিরছে, তেমনি নীল জলরাশির টানে পর্যটন নগরী কক্সবাজারেও নামছে লাখো মানুষের ঢল। রমজান মাসজুড়ে পর্যটকশূন্য থাকা নিস্তব্ধ সমুদ্রসৈকত এখন প্রাণ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায়; হোটেল-মোটেল থেকে শুরু করে ঝিনুক মার্কেট—সবখানেই এখন উৎসবের সাজ সাজ রব। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সৈকতে জেট স্কি, বিচ বাইক, ঘোড়া, কিটকট ও ফটোগ্রাফাররা প্রস্তুত। বিশেষভাবে সৈকতপাড়ে শামুক-ঝিনুক ও বার্মিজ পণ্যের দোকানিরাও নতুন করে সাজিয়েছেন তাদের দোকান। লোক সমাগমে জমে উঠবে ব্যবসা-এমনটাই আশা তাদের। কয়েক দশক পর ভাসমান দোকান ছাড়া এবার অন্যরকম সৈকত দেখবে পর্যটকরা। জেলা সদরের বাইরেও হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী, মহেশখালী, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ জেলার সব পর্যটন স্পট গুলোকে সাজানো হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিংহভাগ ভ্রমণ পিপাসু ঝঞ্জাটহীন অবকাশ যাপনে আগাম বুকিং দিয়েছে। এতে তারকা হোটেলগুলো ২২ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত আগাম বুকিং হয়ে আছে। কম-বেশি বুকিং হয়েছে হোটেল-গেস্ট হাউসও। এরপরও অনেক হোটেল-মোটেল-কটেজের কক্ষ খালি থাকবে। ওয়াকিং গেস্ট হয়ে পর্যটকরা ভিড় বাড়ালে পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোদ-বৃষ্টির লোকচুরিতে এবারের ঈদ পর্যটন অন্যতম মাত্রা যোগ করতে পারে বলে অভিমত তাদের। সাগরপাড়ের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, প্রায় সপ্তাহ খানেক সময়ের জন্য হোটেল কক্ষ আগাম বুকিং হওয়া দেয় হচ্ছে। পর্যটক আমাদের লক্ষী। আন্তরিক সেবায় কক্সবাজারের প্রতি সবাইকে আকৃষ্ট করার তাগাদা আমাদের। এবারও ব্যতিক্রম নয়। কক্সবাজার ট্যুরস অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টুয়াক) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ রেজাউল করিম মতে, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত সৈকত তীরের ৫ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট। এরই মধ্যে হোটেলগুলোর কক্ষ বুকিং হয়েছে ৭০-৮০ শতাংশ। পর্যটকদের ঈদ আনন্দ দিতে থাকছে নানা আয়োজনও। ঈদে পর্যটককে টৈটম্বুর হতে পারে বেলাভূমি। ওশান প্যারাডাইসের বিপণন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নুর সুমেল বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন হোটেলে ব্যান্ডদল শিরোনামহীনের পারফরমেন্স রয়েছে। রয়েছে গালা ডিনারও। আমাদের পাশাপাশি রামাদা হোটেলেও ডিজে প্রোগ্রাম আয়োজন থাকছে। ২২ মার্চ থেকে সৈতকপারে লোকসমাগম বাড়তে পারে। কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন হোটেলে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। ঈদ পরবর্তী প্রতিদিন লাখো পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করবেন। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভালো রাজস্ব আয় হবে। লেইজার হোটেলিয়ার্স অব বাংলাদেশ কক্সবাজার জোনের সভাপতি আবু তালেব শাহ বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময় নিয়ে মানুষের মাঝে থাকা সংশয় দূর হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও এখন ভালো। ঈদের ছুটি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ঈদের টানা ছুটিতে কক্সবাজার পর্যটককে মুখরিত থাকবে আশা করা যায়। পর্যটক যা-ই আসুক সব পর্যটন স্পট গুলোতে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা ও ট্যুরিষ্ট পুলিশ। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান জানান, ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পর্যটক আগমন বাড়বে- সেটা মাথায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ দমনে কয়েকটি ভাগে টম সাজানো হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশও নিয়মিত কার্যক্রম করবে। প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা দেবে জেলা পুলিশ। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এমএ মান্নান জানান, ঈদে পর্যটক ছাড়াও স্থানীয় দর্শনার্থীদের পদচারণা পড়বে বেলাভূমিতে। ভ্রমণপিপাসুদের বিচরণ নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের একাধিক টিম টহলে থাকবে। টহল দেবে পুলিশ-র্যাবসহ সাদা পোশাকের শৃঙ্খলা বাহিনীও। ভ্রমণ পিয়াসীদের নির্মল আনন্দ নিশ্চিত করা-ই আমাদের মূল লক্ষ্য। সায়ীদ আলমগীর/কেএইচকে/এমএস