রাজধানীর বিপণিবিতান: শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় উৎসবের জোয়ার

রমজানের শুরুটা কিছুটা ঢিমেতালে হলেও ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে এসে যেন বাঁধ ভেঙেছে কেনাকাটার জোয়ার। শুক্রবার (২০ মার্চ) ছুটির দিনে রাজধানীর রাজপথ ছাপিয়ে বিপণিবিতানগুলোতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই।কেনাকাটার আনুষ্ঠানিকতা অনেক আগেই শেষ, তবুও ‘বাদ রয়ে যাওয়া’ ছোটখাটো অনুষঙ্গ মেলাতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মার্কেটে ছুটছেন নগরবাসী। বিশেষ করে নিউমার্কেট, গাউছিয়া ও পুরান ঢাকার অলিগলিতে এখন উৎসবের মাতম। সরেজমিন দেখা যায়, নাড়ির টানে অর্ধেকের বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়লেও বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় কমেনি একটুও। বরং চিরচেনা যানজট আর ভিড়ের ঝক্কি এড়াতে যারা এতদিন অপেক্ষায় ছিলেন, সেই স্থানীয় বাসিন্দাদের দখলেই এখন পুরো শহর। শেষ সময়ে কিছুটা কম দামের আশায় কিংবা কর্মব্যস্ততায় যারা বাড়ি ফিরতে পারেননি, তারাই এখন ভিড় করছেন দোকানে দোকানে।পুরান ঢাকা থেকে সপরিবারে নিউমার্কেটে আসা ক্রেতা মিন্টু মিয়া উচ্ছ্বাস নিয়ে বলেন, ‘ঈদের সব কেনাকাটা তো আগেই শেষ। কিন্তু সপরিবারে মার্কেটে না ঘুরলে তো ঈদের আসল আমেজই পাওয়া যায় না! বাচ্চাদের জন্য ছোটখাটো কিছু আর গিন্নির জন্য প্রসাধনী নিতেই এই শেষবেলায় আসা।’ভিড়ের মধ্যে ভিন্ন এক উদ্দেশ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন ক্রেতা আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। তিনি জানান, ‘শেষ সময়ে এসে অনেক বিক্রেতাই কিছুটা কম লাভে পণ্য ছেড়ে দেন। সেই সুযোগটাই নিতে এসেছি। পছন্দসই কিছু পেলে মন্দ হয় না।’ আরও পড়ুন: ঈদের কেনাকাটায় চাঙ্গা অর্থনীতি, রেকর্ড লেনদেনের আশা ব্যবসায়ীদেরসবচেয়ে বেশি হিমশিম খেতে হচ্ছে জুয়েলারি ও প্রসাধনীর দোকানদারদের। পোশাকের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে চুড়ি, দুল কিংবা শেষ মুহূর্তের সাজগোজের সরঞ্জাম কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন নারীরা। এ বছর পণ্যের দাম ও সংগ্রহ–উভয় দিক দিয়েই সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা দুপক্ষই। এক গয়না বিক্রেতা দম ফেলার সুযোগ না পেয়েই হাসিমুখে বললেন, ‘সারা মাস কাপড়ের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও আজ আমাদের নিশ্বাস নেয়ার সময় নেই। বিক্রি প্রত্যাশার চেয়েও অনেক ভালো।’উৎসবের এই ঝলমলে আলোর উল্টো পিঠে লুকিয়ে আছে এক পশলা আবেগ। সারা মাস হাজারো মানুষকে নতুন জুতো পরিয়ে তৃপ্তি খুঁজলেও, নিজের বা পরিবারের জন্য একজোড়া স্যান্ডেল কেনার ফুরসত পাননি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কাদের মিয়া। আজ যখন সাধারণ ক্রেতারা ঘরে ফিরছেন, তখন তিনি দাঁড়িয়েছেন অন্য এক দোকানের ক্রেতার সারিতে। কাদের মিয়ার কণ্ঠে কিছুটা ক্লান্তি আর অনেকখানি ভালোবাসা– ‘এতদিন তো মানুষকে পরিয়েছি, এখন নিজের কলিজার টুকরাদের জন্য কিছু নিতে এলাম। আমাদের মতো বিক্রেতাদের জন্য এই শেষ দিনটাই শেষ ভরসা।’বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বেতন ও বোনাস হাতে পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে কেনাকাটার গতি বেড়েছে কয়েক গুণ। এই প্রবল চাহিদা সামাল দিতে এবং কোনো ক্রেতা যেন খালি হাতে না ফেরেন, সে জন্য ঈদের দিন ভোর পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মালিকপক্ষ। সব মিলিয়ে এবারের ঈদবাজার এখন শুধু কেনাবেচা নয়, হয়ে উঠেছে এক প্রাণের উৎসব।