চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ও স্মৃতিবিজড়িত জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে দ্রুত ‘হেরিটেজ’ বা প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের স্মৃতি বিজড়িত এই স্থাপনাটিকে দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা করা হয়েছে।শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে অবস্থিত জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।জাদুঘরটির বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হেরিটেজ প্রপার্টি। অত্যন্ত পুরোনো ও দৃষ্টিনন্দন এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে রুগ্ন দশায় পরিণত হয়েছে। চোখে পড়ার মতো অনেকগুলো স্ট্রাকচারাল (কাঠামোগত) সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই সমস্যাগুলো আগে সমাধান না করলে রিনোভেশন বা সংস্কার করা সম্ভব নয়।তিনি আরও বলেন, এই ভবনেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। সে কারণে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের মানুষের আবেগ ও গাম্ভীর্য এই স্থাপনার সাথে মিশে আছে।আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছর এই জাদুঘরটির প্রতি কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে যারা সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি। অবহেলার কারণে বর্তমানে জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের আসার মতো অবস্থায় নেই। অথচ এক সময় এখানে প্রচুর মানুষ আসতেন।আগামীর ইতিহাসের স্বার্থে এবং স্মৃতি অম্লান রাখতে এই জাদুঘরকে পরিপূর্ণতা দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশে খুব বেশি হেরিটেজ প্রপার্টি নেই। যেগুলো আছে, সেগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা দরকার। জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে, তাই ইমিডিয়েট সংস্কারের মাধ্যমে এই প্রপার্টিকে টিকিয়ে রাখতে হবে।আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে ফাটল, পরিদর্শনে মেয়রমন্ত্রী জানান, জাদুঘরের কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে তিনি দ্রুতই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সাথে কথা বলবেন। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করে জাদুঘরের বিষয়বস্তুগুলোকে সঠিকভাবে পুনঃস্থাপন করার ওপর তিনি জোর দেন।পরিদর্শনকালে মন্ত্রী পুরো জাদুঘরটি ঘুরে দেখেন এবং এর বিভিন্ন কক্ষ ও অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জাদুঘরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।