নিত্যপণ্যের বাজার থেকে শুরু করে বিপণিবিতান-সবখানেই ঈদ কেনাকাটার ব্যস্ততা। উৎসবের এই আমেজে গতি পেয়েছে দেশের অর্থনীতিও। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ঈদকে ঘিরে লেনদেনের পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভালো হতে পারত।ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতারা কাপড়ের গুণমান, সেলাই ও রং খুঁটিয়ে দেখে পোশাক কিনছেন। পোশাকের পাশাপাশি জুতা, অলংকারসহ বিভিন্ন দোকানেও চলছে কেনাকাটার উৎসবমুখর পরিবেশ। ক্রেতারা বলছেন, নতুন পোশাক পরার আনন্দই আলাদা, আর ঈদের খুশিকে ঘিরেই এই কেনাকাটা। ক্রেতা সমাগম বাড়ায় বিক্রি বেড়েছে ব্যবসায়ীদের। এতে স্বস্তি ফিরেছে তাদের মধ্যেও। ব্যবসায়ীরা জানান, আগের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো হচ্ছে। নির্বাচনের পর থেকেই বেচাকেনা বাড়তে শুরু করেছে, আর ঈদকে ঘিরে সেই ধারা আরও জোরদার হয়েছে। বাংলাদেশ দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ বলেন, এবার ঈদে বেচাকেনা প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যা গত সাত বছরেও অর্জন করা সম্ভব হয়নি। আরও পড়ুন: ঈদের আগে আরও কমলো স্বর্ণ-রুপার দাম, শপিংয়ের আগে জেনে নিন নতুন বাজারদর তবে অর্থনীতির এই গতি ধরে রাখতে জ্বালানি সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ইনফিনিটি মেগা মলের ভাইস চেয়ারম্যান নাইমুল হক খান বলেন, নির্বাচনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে যানজট ও যুদ্ধের প্রভাবে বিদ্যুৎ খাতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ না হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ত এবং কেনাবেচাও আরও বেশি হতো। তবে সামগ্রিকভাবে এবার ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে বেচাকেনা হয়েছিল ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এবার সেই পরিমাণ আরও বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।