মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার দাবি জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে বিমানটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় ও এতে সেটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রে দাবি, মিশন পরিচালনার একপর্যায়ে যুদ্ধবিমানটি মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে ‘নিরাপদে’ অবতরণ করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে শুক্রবার (২০ মার্চ) সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’র খবরে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। অবশ্য সংবাদমাধ্যমটি এই দাবির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেলে, এটি হবে মার্কিন কোনো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার প্রথম ঘটনা। একই সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন বিমানে হামলারও প্রথম ঘটনাও এটি। ২০১৮ সাল থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিভিন্ন অভিযানে ব্যবহৃত হলেও শত্রুপক্ষের গুলিতে আক্রান্ত হওয়ার নিশ্চিত কোনো নজির আগে পাওয়া যায়নি। অবশ্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ইরানের আকাশসীমায় যুদ্ধ মিশন পরিচালনার পর যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-থার্টি ফাইভ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। বৃহস্পতিবার ‘নিরাপদে’ অবতরণের পর পাইলট বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন। এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে দুটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রায় ১০০ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ডলারের এই বিমানটি সম্ভবত ইরানের হামলার শিকার হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে সৌদি আরবের একটি ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি কেসি-ওয়ান থ্রি ফাইভ স্ট্র্যাটোট্যাংকার রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। গত ১ মার্চ এক ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ঘটনায় কুয়েতের একটি এফ/এ-১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ ই স্ট্রাইক ঈগল ভূপাতিত হয়। এতে থাকা ছয়জন ক্রু নিরাপদে ইজেক্ট করে উদ্ধার হন। এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইরানে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮ হাজার ৫৫১ জন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন বলেছেন, মার্কিন বাহিনী তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে ও প্রতিদিনই ইরানের ভেতরে আরও গভীরে হামলা চালানো হচ্ছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অবশিষ্ট রয়েছে ও তারা বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে এই যুদ্ধে প্রবেশ করেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই এসএএইচ