রংপুরে ঈদ উপলক্ষে অর্ধশতাধিক বিনোদন কেন্দ্র নতুন সাজে প্রস্তুত হয়েছে।নগরীর চিড়িয়াখানা, শিশু পার্ক, চিকলি ওয়াটার পার্ক, তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর, শিরিন পার্ক, প্রয়াস বিনোদন পার্ক, কালেক্টরেট সুরভি উদ্যান, টাউনহল চত্বর, নগরীরের বাইরে গঞ্জিপুরে ভিন্নজগৎ, পীরগঞ্জে আনন্দ নগর, কাউনিয়া তিস্তা পার্ক, মহিপুরঘাট ও তিস্তা সেতুসহ নগরী ও আশপাশের জনপ্রিয় স্পটগুলোতে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। চিকলী ওয়াটার পার্ক-রংপুর নগরীর সবচেয়ে বড় বিনোদন পার্ক হিসেবে বর্তমানে আলোচিত নাম সিটি পার্ক ও চিকলি ওয়াটার পার্ক। যা নগরীর প্রাণকেন্দ্র খ্যাত ইসলামপুর হনুমানতলা ও সাগরপাড়া সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। এই সিটি পার্ক ও চিকলী ওয়াটার পার্ক ১০০ একর অধিক জমির উপর এই পার্কটি। এরমধ্যে ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ওয়াটার পার্ক। যা দেশের মধ্যে ভাসমান ওয়াটার পার্ক। এই পার্কে ওয়াটার রাইড ছাড়াও শিশুদের খেলার জায়গা, বিশাল নাগরদোলা ও ট্রেন, মনোরম সবুজ ঘেরা বাগানবিলাশের বাগান, কৃত্রিম ঝর্ণাধারা, আর সিটি পার্কে রয়েছে স্পিড বোর্ডসহ নানা ধরনের খেলনা। রংপুর চিড়িয়াখানা-নগরীর প্রাণকেন্দ্রে বিনোদন উদ্যান ও রংপুর চিড়িয়াখানা। যা এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বড় চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানাটি ২২ একর এলাকা জুড়ে রয়েছে। এখানে রয়েছে অর্ধ শতাধিক রাইডের সমাহার নিয়ে শিশু পার্ক। আরো রয়েছে ভূতের গুহা। রয়েছে কৃত্রিম হ্রদ, এখানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, গন্ডার, জলহস্তী, হরিণ, বানর, চিতাবাঘ, ভালুক, কুমির, অজগর, কচ্ছপ প্রভৃতি। এছাড়াও রয়েছে ময়না, টিয়া, ময়ূর, কাকাতুয়া, কবুতর, বক সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।ভিন্ন জগৎ-বাংলাদেশের প্রথম প্লানেটেরিয়ামে সাজানো বড়পরিসরের স্পট ‘ভিন্ন জগৎ’। প্লানেটেরিয়ামে জানতে পারবেন ‘মহাবিস্ফোরণ বা বিগব্যাং’-এর মাধ্যমে পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস। বিস্ময়কর এই প্লানেটেরিয়াম সমৃদ্ধ ভিন্ন জগতের অবস্থান রংপুর নগরী থেকে পাগলাপীর বাজারের একটু দূরে গঙ্গাচড়া উপজেলার গঞ্জিপুরে। এটি রংপুর জেলার সবচেয়ে বড় পিকনিক স্পট ও পর্যটনকেন্দ্র।ভিন্ন জগতে যা রয়েছে-ভিন্ন জগৎ না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারবেন না, এর ভেতরে আরেকটি ভিন্নজগত রয়েছে। সবুজের সমারোহে ঘেরা এ বিনোদন স্পটে প্লানেটেরিয়াম ছাড়াও রয়েছে, আজব গুহা, তাজমহল, মস্কোর ঘণ্টা, আইফেল টাওয়ার, চীনের প্রাচীরসহ ট্রেন, উড়োজাহাজ। সবুজে ঘেরা গাছগাছালিতে বাসা বেঁধেছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এর ভেতরে ক্লান্তি আসবে না। নিরিবিলি সময় কাটাতে এখানে আবাসন সুবিধাও রয়েছে সেখানে। আরও আছে থ্রিস্টার মডেলের ড্রিম প্যালেস ও পাখিদের অভয়ারণ্য। রয়েছে শপিংমল, আধুনিক কনফারেন্স ও কমিউনিটি সেন্টার, স্কিল টেস্ট, রোবট জোন। বিশাল সুইমিংপুলও রয়েছে ভিন্ন জগতের ভেতরে। যেখানে স্বল্প টাকায় মিলবে সমুদ্রের অনুভূতি ও প্রশান্তি।আরও পড়ুন: ঈদের আনন্দ কয়েকগুণ বাড়াতে পারে বাগেরহাটের দর্শনীয় যেসব স্থানতাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর-ঈদের আনন্দে ঘোরাঘুরির স্থান হিসেবে আকর্ষণীয় স্থান তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর। এই তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। সেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা। রাজবাড়িটি রংপুর শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি রংপুরের অন্যতম একটি প্রাচীন নিদর্শনও বটে। যার কারণে ঈদে দর্শনার্থী হিসেবে সব বয়সি মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে।পীরগঞ্জে আনন্দনগর-রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় সৌন্দর্যমণ্ডিত সুবিশাল এক বিনোদন কেন্দ্র নাম “আনন্দনগর”। রংপুর শহর হতে দূরে, আধুনিক সুবিধা সমৃদ্ধ, কোলাহল মুক্ত, নয়নাভিরাম নৈসর্গিকতার একটি আদর্শ বিনোদন কেন্দ্র। নিত্যদিনের ক্লান্তি ভুলতে ও নির্মল আনন্দ লাভের জন্য এখানে রয়েছে নাগরদোলা, মিনি ট্রেন, আইস ল্যান্ড, ওয়াটার হুইল, রোপ ওয়েল, টাইটানিক, জাহাজে নৌ ভ্রমণসহ চা চক্র, প্লানেটরিয়ামসহ নানা আকষনীয় রাইড, যা ছোট থেকে বড় সবাইকেই আনন্দ দেয় সমানভাবে।একই উপজেলায় প্রাকৃতিক পরিবেশে আরও একটি নতুন বিনোদন কেন্দ্র ‘’তাজ ইকোভেঞ্চার’ গড়ে উঠেছে। উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে প্রায় ১০ একর জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে বিনোদন পার্কটি। নতুন হলেও পার্কটি বিনোদনে সময়ের চাহিদা পূরণ করবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। মিঠাপুকুরে ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘর-রংপুর জেলার মিঠাপুকুরে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মর্ম, সংরক্ষণ এবং হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার জীবনের ছোঁয়া ধরে রাখার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে গড়ে উঠেছে ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘর। কবি, লেখক ও সংস্কৃতিমনা আদিল ফকিরের হাত ধরেই রূপ নেওয়া এই জাদুঘরটি মূলত হারিয়ে যাওয়া ৬০ থেকে ৯০ দশকের গ্রামীণ জীবনের নানা ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্র সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই ঈদে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে ফকিরবাড়ি পল্লি জাদুঘরটি। জাদুঘরে আরো রয়েছে শিশুদের খেলার বিভিন্ন রাইড, রয়েছে সান বাগান ঘাট ও নৌকা, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। কুঁড়েঘরে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ। ঈদে রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে বিগত ঈদের মতোই মানুষের ঢল নামবে। চিকলি ওয়াটার পার্কে জলক্রীড়া, আনন্দনগরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, তাজহাট জমিদার বাড়িতে ঐতিহাসিক ভ্রমণ সব মিলিয়ে রংপুরবাসী ও বাইরের পর্যটকদের জন্য ঈদের ছুটি হবে আনন্দময়, বৈচিত্র্যময় ও প্রশান্তির।এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বিনোদন পার্ক, পার্ক এলাকা ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতে মানুষের ব্যাপক সমাগমের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।আরও পড়ুন: সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রংপুরে ঈদ উদযাপনপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষ্যে নগরীর পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র, শপিং এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও চুরি, ছিনতাই ও বিশৃঙ্খলা রোধে টহল বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের দিন ও পরবর্তী সময়েও নিরাপত্তা জোরদার থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট, ফুট প্যাট্রোল ও মোবাইল টিম মোতায়েন থাকবে।রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মজিদ আলী বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে বিনোদন পার্কগুলোতে পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি থাকবে। এছাড়াও টহল টীম থাকবে প্রতিটি স্পটের আশেপাশে। সবমিলিয়ে বিনোদন পার্কে যাতে ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে প্রস্তুতি রয়েছে।