দক্ষিণ কোরিয়ায় অটোপার্টস কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিখোঁজ ১৪

দক্ষিণ কোরিয়ার দেজনে একটি অটোপার্টস উৎপাদনকারী কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৪ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। এছাড়া এখনও ১৪ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।শুক্রবার (২০ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৭ মিনিটের দিকে দেজনের দেদিয়োক-গু এলাকার মুনপিয়ং-দংয়ে অবস্থিত কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়।আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় প্রথমে ‘ফেজ-১’ এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘ফেজ-২’ অগ্নি সতর্কতা জারি করা হয়।পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে দেশব্যাপী জরুরি অগ্নিনির্বাপণ মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ৯০টিরও বেশি অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, প্রায় ২০০ জন দমকলকর্মী এবং কোরিয়া ফরেস্ট সার্ভিসের একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়।কর্তৃপক্ষ জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অন্তত ৫৫ জন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ প্রাণ বাঁচাতে ভবন থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে আহত হয়েছেন।আরও পড়ুন: ন্যাটো মিত্রদের ‘কাপুরুষ’ বললেন ট্রাম্প!ঘটনার সময় কারখানাটিতে প্রায় ১৭০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনের এখনো খোঁজ মেলেনি। ফলে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালাতে দমকল বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে।জানা যায়, দুটি ভবন সংযুক্ত এই কারখানার যে অংশে প্রথম আগুন লাগে, সেটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুন পাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া কারখানার ভেতরে প্রায় ২০০ কেজি সোডিয়াম মজুত থাকায় বিস্ফোরণের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। ফলে দমকলকর্মীরা আগুন যাতে ওই রাসায়নিক পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারে, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রিফ্যাব কাঠামোর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে উঠেছে।আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে দুর্ঘটনার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।