বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল

সারা দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হচ্ছে আজ। প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের জামাত হবে। তাই সকাল থেকে ঢল নেমেছে মুসল্লিদের।এরইমধ্যে শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৭টায় প্রথম জামাত ও সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা একসঙ্গে ঈদের নামাজে অংশ নিতে মসজিদে এসেছেন। এতে সকাল থেকেই মসজিদ প্রাঙ্গণে মুসল্লিদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শিশুদের মধ্যে আনন্দ চোখে পড়ার মতো, তারা নতুন পোশাক পরে এসেছে। আরও পড়ুন: পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ মানুষ ঈদের খুশি ভাগাভাগি করছেন। এক মুসল্লি কামরুল ইসলাম জানান, সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নামাজ পড়ার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। প্রতিবছরই বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের নামাজ পড়া হয়।   জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত সকাল ৭টা, সকাল ৮টা, সকাল ৯টা, সকাল ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দুই সিটি করপোরেশনের এলাকাভিত্তিক মসজিদগুলোতেও ঈদের নামাজ আদায় হবে। ঢাকা পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় এবার ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ এবং ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করবেন। রাজধানীর প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে এখানে জামাত সম্ভব না হলে বিকল্প হিসেবে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। এখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ প্রায় ৩৩০ জন ভিআইপি এবং প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ সাধারণ মুসল্লির জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের জন্য রাখা হয়েছে পৃথক পর্দার ব্যবস্থা। আরও পড়ুন: রাজধানীর কোথায় কখন ঈদের জামাত এদিকে, এরইমধ্যে ঈদের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে শহরাঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ ছুটে গেছে গ্রামের বাড়িতে। খুশির এই দিনে নতুন জামাকাপড় পরে উৎসবে মেতে ওঠে সব বয়সি মানুষ। বড়রা ছোটদের নতুন উপহার এবং সেলামির টাকা দেয়, যা এই দিনের খুশির চেতনা এবং তাৎপর্যকে প্রতিফলিত করে। ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে বিশেষ খাবার তৈরি করা হয় এবং সবাই একে অপরের বাড়িতে বেড়াতে যান। এর আগে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার (২০ মার্চ) উদযাপন করা হয় ঈদুল ফিতর। পটুয়াখালী, চাঁদপুর, মাদারীপুরসহ কয়েকটি জেলায় ঈদের নামাজে অংশ নেন মুসল্লিরা। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। এছাড়া মুসলিম বিশ্বে একদিনে ঈদ উদযাপনের পরামর্শ তাদের।