ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধসহ মুসলিম বিশ্বের জন্য শান্তি কামনা করেছেন মুসল্লিরা। পাশাপাশি চলমান এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে ঈদের জামাতে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজ শেষে মুসল্লিরা এ আহ্বান জানান। ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ পড়েন তারা। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পাঁচ মিনিট পর আসেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে জাতীয় ঈদগাহে এসেছেন ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, ‘আজ ফিলিস্তিন থেকে ইরানে মুসলমানদের ওপর আগ্রাসন হচ্ছে। আমরা এই আগ্রাসন বন্ধসহ বিশ্বের শান্তি চাই। আজ ফিলিস্তিনের ভাইয়েরা নামাজ পড়তে পারলো না, আমরা সকলের শান্তি কামনা করি।’ প্রায় ৪০ বছর ধরে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ পড়েন ঢাকার বকশিবাজারের বাসিন্দা হাজী আওলাদ হোসেন। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নামাজ আদায় করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। আওলাদ বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়ি। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নামাজ পড়লাম। আমার যতদূর মনে পড়ে এর আগে এরশাদ সরকারের সময় নামাজ পড়েছিলাম।’ জাতীয় ঈদগাহে নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। মহাখালী থেকে এসেছেন কাশফিয়া। তিনি বলেন, ‘নামাজ পড়ে সবার জন্য দোয়া করলাম। আজ ফিলিস্তিন থেকে ইরান সমস্ত মুসলিম ভাইবোনদের রক্ত ঝরছে। যাতে করে আর একটি মুসলিম ভাইবোনেরও রক্ত না ঝরে সেই দোয়া করলাম।’ মিরপুর-২ নম্বর থেকে নামাজ পড়তে এসেছেন লায়লা আক্তার, সঙ্গে নিয়ে এসেছেন মেয়ে ফাবিহা প্রমি ও মাহিয়া প্রিমাকে। লায়লা আক্তার বলেন, ‘সবাই একসঙ্গে নামাজ পড়লাম। অনেক খুশি লাগছে। কিন্তু অন্যদিকে মন কাঁদছে ইরানের ভাই বোনের জন্য।’ মোহাম্মদপুর আদাবর থেকে এসেছেন মঞ্জুর হোসেন ইসা। তিনি বলেন, ‘আজ শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ পড়লাম। আমাদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীও নামাজ পড়েছেন, এই জন্য খুশিটা আরও বেশি। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মুসলমানদের জন্য দোয়া করেছি। যাতে করে অতিদ্রুত ইরান যুদ্ধ বন্ধ হয়, ফিলিস্তিনের মানুষ মুক্তি পায়।’ এমওএস/বিএ