রমজানের পরেও যেভাবে আমলের অভ্যাস ধরে রাখবো

রমজান মাস হলো আত্মশুদ্ধি এবং তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জনের এক অপূর্ব সুযোগ। আমাদের থেকে এ মাস চলে যাচ্ছে। আবার কি আমরা রমজান পাবো? এ গেরান্টি কেউই দিতে পারবো না।আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।  কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো, রমজানের এই প্রশান্তি এবং আল্লাহপ্রেম কি কেবল এক মাসের জন্যই হওয়া উচিত ? রমজানের প্রকৃত প্রাপ্তি তো তখনই অর্জিত হবে, যখন আমরা এই তাকওয়ার অনুশীলনকে সারা বছরের অভ্যাসে পরিণত করতে পারব।  রমজানে আমরা প্রচুর কোরআন তেলাওয়াত করি, কিন্তু নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়। তাই রমজানের পরেও প্রতিদিন অন্তত কিছু পরিমাণ কোরআন পড়ার অভ্যাস আমাদের ধরে রাখা উচিত। রমজানে আমরা তাহাজ্জুদ ও নফল নামাজ পড়ি, এই অভ্যাস সারা বছর বজায় রাখলে আত্মশুদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, কারণ রাসূল (সা.) বলেছেন নামাজ হলো ঈমানের আলো।রমজানে আমরা যেমন চোখ, কান, জিহ্বাকে সংযত রাখি এবং রাগ নিয়ন্ত্রণ করি, সারা বছরই তা ধরে রাখা প্রয়োজন। নবী কারীম (সা.) বলেছেন, সত্যিকারের মুসলিম সেই যার হাত ও জিহ্বা থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে। শয়তান রমজানের পরেও সক্রিয় থাকে, তাই গুনাহ থেকে বাঁচতে রাসূল (সা.)-এর এই হাদিসটি মনে রাখতে হবে, আসল বীরত্ব সেই ব্যক্তির যে তার নফসকে সংযত রাখতে পারে।আমাদের মনে রাখতে হবে, আমল অল্প হলেও তা নিয়মিত করা উচিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা পরিমাণে কম হয়। (বুখারি ও মুসলিম)। আল্লাহ তাআলা কোরআনেও নির্দেশ দিয়েছেন, "আর তোমার রবের ইবাদত করো মৃত্যু আসা পর্যন্ত। (সূরা হিজর: ৯৯)। তাই দর্শক, রমজানের পর ভালো পরিবেশ ও সৎ বন্ধু নির্বাচন করুন, কারণ নবীজি (সা.) বলেছেন মানুষ তার বন্ধুর ধর্মের ওপর থাকে। দুনিয়ার মোহে না পড়ে, বুদ্ধিমানের মতো মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য কাজ করুন। আল্লাহ আমাদের সব আমল খাঁটি নিয়তে সারা বছর করার তৌফিক দিন। আমিন।