ঈদের দিন সকাল থেকেই রাজধানীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করে এদিনও প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরেছেন অনেকে। অধিকাংশ কাঁচাবাজার ও মাছের বাজার বন্ধ থাকলেও সীমিত পরিসরে খোলা দেখা গেছে কিছু মুদি, মিষ্টি ও মাংসের দোকান। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে মিরপুর, বসুন্ধরা, নর্দা ও বাড্ডা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—কাদা ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে জরুরি কেনাকাটার জন্য ক্রেতারা ভিড় করছেন খোলা থাকা দোকানগুলোতে। তবে মাছ ও সবজির দোকান প্রায় পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ঈদের দিনেও গরুর মাংস চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮১০ থেকে ৮৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রতিটি গরুর দাম গড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ কারণে মাংসের দামও কেজিপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে চাঁদরাত থেকে দাম আরও বাড়ে। ঈদের দু-একদিন আগেও যেখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৯০–৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, চাঁদরাতে তা বেড়ে যায় কেজিতে ৫০–৬০ টাকা। মিরপুরের মুসলিম বাজার থেকে ১৬৮০ টাকায় ২ কেজি গরুর মাংস কেনেন আবদুর রহমান। তিনি বলেন, আগের দিন ভিড়ের কারণে কিনতে না পেরে ঈদের দিনই কিনতে হলো, তবে দাম কমেনি। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের পর চাহিদা কমে গেলে মাংসের দাম কিছুটা কমতে পারে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, গরুর মাংসের উচ্চ দামের কারণে অনেকেই ঝুঁকছেন মুরগির দিকে। ফলে মুরগির দামও বেড়েছে। বাজারে আজ ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০–২৩০ টাকা কেজিতে এবং সোনালী মুরগি ৩৮০–৪০০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল প্রতি কেজি ১৮০–২০০ টাকা। মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার একজন বিক্রেতা জানান, ঈদের আগের দিন ও চাঁদরাতে ব্রয়লার মুরগির বিক্রি তিন–চার গুণ বেড়ে গেছে। ঈদের দিন খোলা থাকা মুদি দোকানগুলোতে তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে কোমল পানীয়, আইসক্রিম, চকলেট ও চিপস। দোকানিরা জানান, বাচ্চাদের হাতে ঈদের টাকা থাকায় এসব পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। অনেকে আবার ব্যস্ততার কারণে আগেভাগে প্রয়োজনীয় বাজার সারতে না পারায় ঈদের দিন সেমাই, চাল, তেল ও মসলা কিনছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ ঘিরে সেমাই ও দুধের দাম স্থিতিশীল থাকলেও কিছু জায়গায় সয়াবিন তেলের সংকট রয়েছে। এছাড়া মসলা ও সুগন্ধি চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। এসএম/এমকেআর