ঈদের মতো ছুটির দিনে অবসর সময় কাটাতে আমরা অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিকে ঝুঁকে পড়ি। বন্ধুদের আপডেট দেখা, ছবি শেয়ার করা কিংবা নতুন কনটেন্ট উপভোগ করা থেকে সবকিছুই এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে এই অভ্যাস যে সবসময় ভালো প্রভাব ফেলে, তা কিন্তু নয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, কিছু জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় যা বলছেঅক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিং রিসার্চ সেন্টারের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ইনস্টাগ্রাম, এক্স এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলকভাবে ক্ষতিকর। এই গবেষণাটি ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’-এর একটি অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্মে যেসব কনটেন্ট দেখা যায়, তা অনেক সময় ব্যবহারকারীদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। কোন প্ল্যাটফর্ম তুলনামূলক ভালো?গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুক ব্যবহারে মানসিক স্বাস্থ্যে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে কম পড়ে। এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যক্তিগত যোগাযোগ বেশি হয়, যা মানুষকে সামাজিকভাবে সংযুক্ত রাখে এবং একাকিত্ব কমায়। যেভাবে ক্ষতিকর ইনস্টাগ্রাম, এক্স ও টিকটকইনস্টাগ্রাম, এক্স এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে সাধারণত এমন কনটেন্ট বেশি দেখা যায়, যা তুলনামূলক জীবনধারা, বাহ্যিক সৌন্দর্য বা অতিরিক্ত পারফেক্ট জীবনকে তুলে ধরে। এতে ব্যবহারকারীরা নিজেদের জীবনের সঙ্গে অন্যদের তুলনা করতে শুরু করেন, যা আত্মসম্মান কমিয়ে দিতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করলে আনন্দের মাত্রা কমে যায় এবং মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। গবেষণার ফলাফলএই গবেষণাটি লাতিন আমেরিকার প্রায় ১৭টি দেশে পরিচালিত হয়। সেখানে দেখা গেছে, ইনফ্লুয়েন্সার-নির্ভর কনটেন্টের আধিক্য ব্যবহারকারীদের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। অনেকেই এই ধরনের কনটেন্ট দেখে নিজেদের জীবনকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে শুরু করেন। ফলে ধীরে ধীরে তারা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি করেন। ডুম স্ক্রলিং ও মানসিক চাপবর্তমানে ‘ডুম স্ক্রলিং’ একটি পরিচিত শব্দ। একটানা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতে করতে আমরা অজান্তেই অনেক নেতিবাচক তথ্য ও কনটেন্টের মুখোমুখি হই। এতে মস্তিষ্কে ক্লান্তি তৈরি হয়, যাকে অনেকেই ‘ব্রেন রট’ বলে থাকেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই অভ্যাস চলতে থাকলে অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগ বেড়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই কনটেন্ট মনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং ঘুমের সমস্যাও দেখা দেয়। যেভাবে ব্যবহার করবেন সোশ্যাল মিডিয়াবিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সংযম জরুরি। দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি সময় এসব প্ল্যাটফর্মে না কাটানোই ভালো। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কনটেন্ট বেছে দেখা, অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং এড়িয়ে চলা এবং অফলাইন সময়কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বাস্তব জীবনের সম্পর্ক, শখ এবং নিজের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব। সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এর ব্যবহার যেন নিয়ন্ত্রিত ও সচেতন হয়। তবেই প্রযুক্তির সুবিধা উপভোগ করার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্যও বজায় রাখা সম্ভব। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য আরও পড়ুন:নতুন ট্রেন্ডে কেন জেন জিরা পুরোনো প্রেমের রীতিতে ফিরছে ঈদে ভালোবাসায় পুরোনো আমেজ ফেরাতে সাময়িক বিরতি নিন এসএকেওয়াই