চিরচেনা কোলাহল নেই, নেই হর্নের তীব্র শব্দ কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার চিরচেনা যন্ত্রণা। ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে ঢাকা ছেড়েছে লাখো মানুষ। আর এতেই প্রাণের শহর ঢাকা ফিরে পেয়েছে তার শান্ত ও স্নিগ্ধ রূপ। জনশূন্য রাজপথে এখন বইছে বিশুদ্ধ বাতাস, যা রাজধানীবাসীর কাছে এক পরম পাওয়া।ঈদের ছুটিতে রাজধানী এখন যেন অন্য এক শহর। মিরপুর, ফার্মগেট কিংবা শাহবাগের মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলো এখন অনেকটাই শান্ত। গণপরিবহণের বাড়তি চাপ না থাকায় অল্প সময়েই পাড়ি দেয়া যাচ্ছে দীর্ঘ পথ। যারা জরুরি প্রয়োজনে বের হচ্ছেন, তাদের চোখে-মুখে তৃপ্তির ছাপ।উত্তরা থেকে মতিঝিল আসা সায়ান বলেন, ‘অন্য সময় উত্তরা থেকে মতিঝিল যেতে ২-৩ ঘণ্টা লেগে যায়। আজ মাত্র ২০ মিনিটে চলে এলাম। রাস্তা এতটা ফাঁকা যে বিশ্বাসই হচ্ছে না। যদি সারা বছর ঢাকা এমন থাকত, তবে আমাদের জীবনটা আরও সহজ হতো। শান্তিতে নিশ্বাস নিতে পারছি।’সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে যাদের রাত-দিন এক করতে হয়, সেই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কাজের চাপও কিছুটা কম। যানজট নিরসনে হাহাকার না থাকলেও পেশাগত দায়িত্ব পালনে তারা সড়কে অবিচল। তবে শব্দদূষণ আর যানজট কম থাকায় তাদের মাঝেও কাজ করছে এক ধরনের প্রশান্তি। আরও পড়ুন: ঈদ আনন্দ সারা বছর ধরে রাখার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীরট্রাফিক পুলিশ হাসান মাসুদ বলেন, ‘ঈদে মানুষ বাড়ি ফেরায় গাড়ির চাপ অনেক কম। আমাদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ডিউটি করতে হলেও এখন গাড়ির ধোঁয়া বা অনবরত হর্নের শব্দ নেই। যানজট সামলানোর যে মানসিক চাপ থাকে, সেটা এখন অনেক কম। তবে আমরা সতর্ক আছি যাতে ফাঁকা রাস্তায় কেউ বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালায়।’রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এখন নেই চিরচেনা ব্যস্ততা। তবে এই নীরবতা সাময়িক। ঈদের আনন্দ শেষে মানুষ ফিরলেই ফের আগের চেহারায় ফিরবে এই মেগাসিটি।ঈদের এই কয়েক দিন ঢাকার চিত্র যেমন স্বস্তিদায়ক, তেমনি এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক কঠিন বাস্তবতা। এই শহর মূলত ভাসমান ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মস্থল। শহর ফাঁকা হওয়া মানে অনেকের সাময়িক জীবিকা বন্ধ হয়ে যাওয়া। তাই নগরবিদরা মনে করেন, ঢাকাকেন্দ্রিক নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকেন্দ্রীকরণ করলেই কেবল বছরজুড়ে এমন স্বস্তির ঢাকা পাওয়া সম্ভব।