বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনাজপুরে লাখো মুসল্লির ঈদ জামাত

ভোর থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা, দফায় দফায় বৃষ্টি আর বজ্রপাত। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া দমাতে পারেনি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের। সব বাধা উপেক্ষা করে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ঈদগাহ ময়দান দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে ঢল নামে লাখো মানুষের। আজ শনিবার সকাল ৯টায় এই বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয়।শনিবার (২১ মার্চ) ভোররাত থেকেই দিনাজপুরে বজ্রপাতসহ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়। এতে বিশাল এই খোলা ময়দানে জামাত আয়োজন নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে সকাল হওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে মুসল্লিরা মাঠে আসতে শুরু করেন। অনেককে দেখা যায় হাতে জায়নামাজের পাশাপাশি ভেজা মাটিতে বিছানোর জন্য প্লাস্টিক শিট নিয়ে আসতে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই ঈদগাহ।এবারের জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় ইমাম সমিতি দিনাজপুরের সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী। নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতে বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসন ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।বিশাল এই জনসমাগম ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠে জেলা পুলিশ ও র‍্যাবের বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিলেন। প্রতিটি প্রবেশপথে ছিল মেটাল ডিটেক্টর। আকাশ থেকে পুরো ময়দান পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হয় ড্রোন। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়।আরও পড়ুন: যশোরে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিতগোর-এ-শহীদ ময়দানে ১৯৪৭ সাল থেকে ঈদের জামাত হয়ে আসলেও ২০১৭ সালে এটি আধুনিক নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে সংস্কার করা হয়। প্রায় ৫ লাখ মানুষের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই ঈদগাহটি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় সমাবেশস্থল।নামাজ শেষে দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেও মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সত্যিই আনন্দদায়ক। নতুন সরকার যাতে দেশের স্বার্থে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে, সেজন্য আমি সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।প্রতিবছরের মতো এবারও দিনাজপুর ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েক হাজার মুসল্লি এই বৃহত্তম জামাতে শরিক হয়ে শুকরিয়া আদায় করেন।