ঈদের ছুটিতে রাজধানীবাসীর অন্যতম গন্তব্য জাতীয় চিড়িয়াখানা। প্রতিবারের মতো এবারের ঈদেও দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে জনপ্রিয় এই বিনোদনকেন্দ্রে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদুল ফিতরের দিন জাতীয় চিড়িয়াখানায় হাজির হয়েছেন অসংখ্য বিনোদনপ্রেমী মানুষ। তবে টিকিট কাউন্টার, চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণ ও চিড়িয়াখানা সংলগ্ন ফুটপাতে দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও টিকিট কেটে প্রবেশ করতে বেগ পেতে দর্শনার্থীদের। গেটের বাইরে ভ্রাম্যমাণ হকারদের জটলাও দেখা গেছে। শনিবার (২১ মার্চ) জাতীয় চিড়িয়াখানায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় সকালে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কম ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাগম বাড়তে থাকে। দর্শনার্থীরা বলছেন, আবহাওয়া ঠান্ডা থাকায় চিড়িয়াখানা ঘুরে ভালাও লাগছে তাদের। বাঘ, ভালুক, হরিণ, সিংহ দেখে অনেকেই যেন ফিরে গেছেন শৈশবে। চিড়িয়াখানায় ঢুকতেই হরিণ, বানর, পেলিক্যান পাখির খাঁচা। এসব খাঁচায় শিশুদের আগ্রহটা একটু বেশি দেখা যায়। বাঘ, সিংহ, জিরাফ, ময়ূরের খাচার সামনে শিশুসহ সব বয়সী মানুষের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ‘ও বাঘ মামা’, ‘ও সিংহ মামা’ ডাকও শোনা যায় কারও কারও মুখে। খাঁচায় বিশ্রামরত পশু-পাখি দেখে খুশি দর্শনার্থীরা। বানর, কুমির, সাপ, ময়ূরের কাণ্ড দেখে যেন আনন্দের শেষ নেই তাদের। যাত্রাবাড়ী থেকে তিন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন মাইনুদ্দিন। তারা স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। মাইনুদ্দিন বলেন, প্রথমে দেখলাম হরিণ, তারপর বানর। সামনে বাঘ, ভাল্লুক আছে। অনেক কিছু দেখবো আজ। দর্শনার্থীদের অনেককে ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে দেখা যায়। কেউ আবার লেকের ধারে গাছের ছায়ায় নিরিবিলি বসেছিলেন। কেউ বাসা থেকে আনা খাবার খাচ্ছেন। শান্তিনগর থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে এসেছেন চাকরিজীবী মিজান আহমেদ। তিনি বলেন, ছোট মেয়ে ক্লাস থ্রি-তে পড়ে। বলেছিলাম পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলে চিড়িয়াখানা নিয়ে যাবো। রেজাল্ট ভালো করেছে, তাই চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসলাম। বেশিরভাগ খাঁচা ঘোরা শেষ। মেয়েরা সাপ দেখে বেশি মুগ্ধ হয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুসহ সব বয়সী দর্শনার্থীর নিরাপত্তায় চিড়িয়াখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যেন কেউ হয়রানির শিকার না হন। ঈদের দিন কয়েক লাখ দর্শনার্থী সমাগম প্রত্যাশা করছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২২ মার্চ) ও সোমবার (২৩ মার্চ) এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাদের ধারণা। এসএম/ইএ