বাড়ি যাওয়ার পথে লঞ্চে চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন, একদিন পর হাসপাতালে মৃত্যু

স্ত্রীর সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা থেকে ভোলায় শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার পথে লঞ্চে নেশাদ্রব্য খাইয়ে মো. মোস্তাফিজুর (৪৫) নামে এক যাত্রীকে অচেতন করার একদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। শনিবার (২১ মার্চ) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।নিহত মোস্তাফিজুর কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। তিনি ঈদ করতে ভোলা সদর উপজেলার ঘুইংগার হাটে শ্বশুর বাড়িতে দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে আসার পথে  শুক্রবার তাকে পানির সাখে নেশাদ্রব্য পান করানো হয়।নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন বেগম জানান, পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে রওনা হন মোস্তাফিজুর। লঞ্চে যাত্রাপথে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে পরিচিত হয়ে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে তাকে পানি পান করতে দেন। সেই পানি পান করার পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় তার কাছে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।পরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় মোস্তাফিজুরকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার রাতে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।আরও পড়ুন: ভোলায় মাকে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে শিশুকে নিয়ে উধাও দুর্বৃত্তরাভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শামসুল আলম জানান, গতকাল শুক্রবার রাতে অজ্ঞাত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় মোস্তাফিজুরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছিল। তবে আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও কি ধরনের বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করা যাবে।ভোলা সদর মডেল থানার এসআই সমিরণ মন্ডল বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খায়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।