ইরান জানিয়েছে, জাপানি জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে এই কৌশলগত জলপথের ওপর তেহরানের বাছাইকৃত অবরোধ আরোপের সর্বশেষ ইঙ্গিত পাওয়া গেল।শুক্রবার রাতে জাপানের কিয়োডো নিউজকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমরা প্রণালীটি বন্ধ করিনি। আমাদের মতে, প্রণালীটি খোলা আছে। এটি কেবল আমাদের শত্রু, অর্থাৎ আমাদের ওপর হামলাকারী দেশগুলোর জাহাজের জন্য বন্ধ। অন্য দেশগুলোর জাহাজ প্রণালীটি দিয়ে যাতায়াত করতে পারে।’ নিরাপদে পার হওয়ার একটি উপায় খুঁজে বের করতে আমরা তাদের সাথে কথা বলছি। আমরা তাদের নিরাপদ পথ করে দিতে প্রস্তুত। এই পথটি কেমন হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে তাদের শুধু আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা সাক্ষাৎকারের একটি ইংরেজি প্রতিলিপি অনুসারে আরাঘচি একথা বলেন। আরও পড়ুন:ইরানি স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল যুক্তরাজ্য জাপান তার অপরিশোধিত তেল আমদানির ৯০ শতাংশেরও বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে করে থাকে এবং প্রণালীটির মাধ্যমে হওয়া রপ্তানির ওপর দেশটি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল, ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে জলপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে দিয়েছিল যে, তাদের বাহিনী ওই জলপথ দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেবে, যার ফলে সামুদ্রিক যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।তবে গত সপ্তাহে ইরান তার বক্তব্য নরম করে বলেছে যে, প্রণালীটি কেবল তেহরানের শত্রুদের জন্যই বন্ধ। জাপান শিগগিরই সেই অল্পসংখ্যক দেশগুলোর দলে যোগ দিতে পারে – প্রধানত চীন, ভারত ও পাকিস্তান – যাদের জাহাজগুলোকে ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেয়া হয়েছে। আরও পড়ুন:হরমুজ প্রণালীতে সাহায্য করতে ছয়টি দেশ সম্মত, বিবৃতি প্রকাশ এদিকে, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং যুক্তরাজ্য চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে প্রণালীটির মধ্য দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ প্রচেষ্টায় অবদান রাখার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে। সূত্র: আল জাজিরা