যান্ত্রিক জীবনে কর্মব্যস্ততার ফাঁকে পরিবার-পরিজন ও প্রিয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঈদুল ফিতরের আনন্দ উপভোগ করতে মেতেছেন বিনোদনপ্রেমীরা। ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে তারা ছুটছেন রাজধানীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। জিয়া উদ্যান ও সংসদ ভবন এলাকায়ও ঢল নেমেছে বিনোদনপ্রেমী মানুষের। তবে বেশিরভাগ মানুষের গন্তব্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে। মানুষের ভিড়কে কেন্দ্র করে এই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সরেজমিনে জিয়া উদ্যানে দেখা যায়, এই এলাকায় বিনোদনপ্রেমী মানুষের দীর্ঘ জটলা। সংসদ ভবনের সামনেও ভিড়। বিনোদনপ্রেমী মানুষের আনন্দে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে ঘোড়ার গাড়ি। প্রতি সিটের ভাড়া ৩০০ টাকা, আর পুরো গাড়ি ভাড়া করতে ৫০০ টাকা গুণতে হচ্ছে। ঘোড়ার গাড়িগুলো সংসদ ভবন এলাকা থেকে খামারবাড়ি পর্যন্ত চলাচল করছে। বিকেলে দর্শনার্থীদের ভিড়ে খামারবাড়ি থেকে শুরু করে জিয়া উদ্যান পর্যন্ত এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকায় ভিড় বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ৭টার দিকেও এসব এলাকায় জনস্রোত দেখা গেছে। অবস্থা এমন যে হেঁটে চলাচলেরও উপায় নেই। মোহাম্মদপুর কাটাসুর কাদেরাবাদ হাউজিং এলাকা থেকে সপরিবারে জিয়া উদ্যানে বেড়াতে এসেছেন শহিদুল ইসলাম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, পুরো পরিবার নিয়ে ঢাকার কয়েকটি জায়গা ঘুরেছি। আগারগাঁও এলাকা থেকে ছোলা-বাটোরো ও দোসা খেয়ে জিয়া উদ্যানে এলাম। ধারণা করেছিলাম সন্ধ্যা গড়ালে কিছুটা ফাঁকা হবে, কিন্তু এখানেও দম ফেলার জায়গা নেই। জিয়া উদ্যানের ব্রিজ দিয়ে আসতে দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা। মিরপুর ৬০ ফিট বারেক মোল্লার মোড় থেকে এসেছেন নবদম্পতি শাফায়েত মাশকাত-সাবিহা প্রেমা। মাশকাত বলেন, আজকের দিনটা আমার কাছে বেশি স্পেশাল। কারণ আমরা রমজান শুরুর একদিন আগে বিয়ে করেছি। এর আগে প্রেমার সঙ্গে ঈদের দিন ঘুরেছি, কিন্তু বিবাহিত জীবনে এবারই প্রথম। এদিকে জিয়া উদ্যানে বিনোদনপ্রেমীদের ঢলকে কেন্দ্র নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। পাশাপাশি তরুণেরা লেকপাড়ে ঢোল, তবলা, বাঁশিসহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয় ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গানের আসর বসিয়েছেন। তাদের গানের সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে পড়ছে এই এলাকায়। গান ও বাদ্যের তালে সুর মেলাচ্ছেন আরও অনেকে। এমওএস/ইএ