চিরচেনা রূপে ফিরছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। পবিত্র রমজানজুড়ে পর্যটকের খরা কাটিয়ে ঈদের ছুটিতে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে সাগরপাড়।শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যেও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভিড় করেন পর্যটক ও স্থানীয় দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে সৈকতের আকাশে দীর্ঘ সময় ধরে ভেসে থাকা রংধনু, মেঘ সরে যাওয়ার পর দিনের শেষ বেলার মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত আর ঠান্ডা হিমেল হাওয়া-সব মিলিয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছে পর্যটকদের ঈদ আনন্দ।এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।রমজানের একমাস যেন নিস্তব্ধ ছিল সাগরপাড়। তবে ঈদের ছুটি শুরু হতেই আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। সকালে কয়েক দফা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও তা সকাল ১০টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বিকেলে ফের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। কিন্তু সেই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই সমুদ্রের টানে ছুটে আসছেন হাজারো মানুষ। কেউ হাঁটছেন ভেজা বালুচরে, কেউবা উপভোগ করছেন ঢেউয়ের ছোঁয়া।প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর ঈদের আনন্দ-দুই মিলিয়ে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর এখন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। সময় যত গড়ায়, ততই বাড়তে থাকে মানুষের সমাগম।ঢাকার মতিঝিল থেকে আসা পর্যটক রোকসানা রহমান বলেন, ‘পরিবারকে নিয়ে-আম্মু, বোন আর ভাগ্নিকে সঙ্গে নিয়ে এই প্রথমবার কক্সবাজারে এসেছি। তাই আনন্দটা যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আজ আমাদের দ্বিতীয় দিন, সামনে আরও এক সপ্তাহ সময় আছে। আশা করছি, এই সময়টাতে সব জায়গা ঘুরে আরও বেশি উপভোগ করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।’আরও পড়ুন: ঈদের সকালেই কক্সবাজারে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, কেমন থাকবে দিনের আবহাওয়া?ইব্রাহিম কাদের বলেন, ‘শুক্রবারই আমরা কক্সবাজারে এসেছি। এখন ঈদের ছুটি, তাই এখানে এসে বেশ উপভোগ করছি। বৃষ্টি একটু সমস্যা হলেও আমরা ঠিকই ঘুরে বেড়াচ্ছি। সব মিলিয়ে সময়টা ভালোই কাটছে। দীর্ঘ ছুটির কারণে কক্সবাজারে আসাটা সত্যিই ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে।’স্থানীয় দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বন্ধুদের নিয়ে কক্সবাজারে এসে বেশ ভালোই সময় কাটছে। আবহাওয়া একটু খারাপ-মানে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে, তবে খুব বেশি না। বাতাসটা দারুণ লাগছে। সমুদ্রপাড়ে দাঁড়িয়ে খুব ভালো লাগছে। রমজানে এখানে মানুষ অনেক কম ছিল, এখন ঈদের ছুটিতে ভিড় বেড়েছে। বৃষ্টিটাও এমন না যে ঘোরাফেরা করা যাবে না-সব মিলিয়ে উপভোগ করছি।’প্রকৃতিও যেন ঈদের আনন্দে সাজিয়েছে নিজেকে। আকাশজুড়ে দীর্ঘসময় ধরে ভেসে থাকা রংধনু, আর মেঘ কেটে যাওয়ার পর দিগন্তজোড়া সূর্যাস্ত মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের। শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, ঠান্ডা হিমেল বাতাস আর নির্মল পরিবেশ পর্যটকদের দিচ্ছে স্বস্তির ছোঁয়া।রোকেয়া রহমান বলেন, ‘ঈদের দিনটা সবার জন্যই আলাদা অনুভূতির। আর আজকের এই দিনটা যেন আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে-বৃষ্টি, সমুদ্রের পাড় আর আকাশজুড়ে রংধনু-সব মিলিয়ে প্রত্যাশার বাইরে এক সুন্দর মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। সত্যিই দারুণ লাগছে।’সাফিনুর আহমেদ বলেন, ‘ঈদের দিনে সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক। পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে এসে ভীষণ ভালো লাগছে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের দৃশ্যটা অসাধারণ-এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সত্যিই বিরল। বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে এই সৌন্দর্য উপভোগ করে মনে এক অন্যরকম অনুভূতি তৈরি হয়েছে, যা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়-চোখ জুড়িয়ে যায়।’আজ সূর্যাস্ত দেখার পরই হঠাৎ আকাশে রংধনু উঠলো-অনেকদিন পর এমন দৃশ্য দেখলাম। সমুদ্রের ঢেউ দেখা, ঝিনুক কুড়ানো-সব মিলিয়ে দারুণ লাগছে। একদিকে রংধনুর রঙিন আবহ, অন্যদিকে হালকা বৃষ্টি আর সমুদ্রসৈকতের পরিবেশ-সব মিলে এক অন্যরকম অনুভূতি দিচ্ছে। সত্যি বলতে, এমন অনুভূতি বারবার পাওয়া যায় না-আজকের অভিজ্ঞতাটা একেবারেই বিশেষ।এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।আরও পড়ুন: সাগরপাড়ে চাঁদ রাতের ঈদ আনন্দ-উৎসবট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের উপ-পরিদর্শক সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘দীর্ঘ রমজান মাসে পর্যটকের সংখ্যা অনেক কম ছিল। তবে ঈদের ছুটিতে এখন পর্যটকের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পর্যটকদের কোনো সমস্যা হলে আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাদের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’সব মিলিয়ে বৃষ্টি, রংধনু আর সূর্যাস্তের অনন্য মেলবন্ধনে এবারের ঈদে ভিন্ন এক রূপে ধরা দিয়েছে কক্সবাজার। যা বাড়িয়ে দিয়েছে ভ্রমণপিপাসু মানুষের আনন্দের মাত্রা।