অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখছে এআই প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা

শরীয়তপুর জেলা শহরের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ১২০টি বিশেষ সিসি ক্যামেরা। অত্যাধুনিক এই ক্যামেরায় ভিডিওর পাশাপাশি শনাক্ত করা যাবে মানুষ ও গাড়ির আলাদা আলাদা চিত্র। এমনকি কোথাও দুর্ঘটনা, অগ্নিসংযোগ এবং অস্বাভাবিক জটলা তৈরি হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেবে কন্ট্রোলরুমে। জেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলাবাসী। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দক্ষিণ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা শরীয়তপুর। জেলাটির পশ্চিম পাশে মাদারীপুর, পূর্ব পাশে চাঁদপুর ও উত্তর পাশে মাদারীপুর ও দক্ষিণে বরিশাল জেলা। শহরটির ওপর দিয়ে ঢাকা, চাঁদপুর ও মাদারীপুর যাওয়ায় প্রধান সড়ক বিদ্যমান। এছাড়া জেলা শহরে বাণিজ্যিক কেন্দ্র পালং বাজার, আংগারিয়া বাজার ও মনোহর বাজার অবস্থিত। শহরের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে দুটি সরকারি কলেজ, দুটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চারটি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। জনবহুল এলাকার মধ্যে রয়েছে পৌর বাস টার্মিনাল, ১০০ শয্যা সদর হাসপাতাল, জজকোর্ট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তর। জনবহুল এলাকা হওয়ায় এসব জায়গায় দিন দিন অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন মেয়েরা। এসব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং সংযোগ সড়কের প্রবেশ ও বাহির মুখে এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, ধর্মীয় উপাসনালয়, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও বাজারগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। কীর্তিনাশা নদীর কোটাপাড়া এলাকায় ক্যামেরা বসিয়ে নৌপথও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মোট ১২০টি স্থানে ১২০টি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে ১৪ কিলোমিটার জায়গায়। সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে স্থাপিত ক্যামেরাগুলোতে বিদ্যুৎ ও সোলার সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ভিডিও সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম, যেখান থেকে সার্বক্ষণিকভাবে পুরো শহর মনিটরিং করা হবে। শহীদুল ইসলাম সজীব নামের স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, ‌‘আমরা বর্তমানে দেখতে পাচ্ছি অপরাধীরা খুবই সক্রিয়। জেলা প্রশাসন এআই সম্বলিত যে ক্যামেরা বসিয়েছে, তা দিয়ে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অপরাধ দমনে সক্ষম হবে। বর্তমানে যে মব হচ্ছে তাও প্রতিহত করা সম্ভব। জেলা প্রশাসনের এমন সুন্দর একটি উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।’ ইমরান আল-নাজির নামের আরেকজন বলেন, ‘শহরে এআই সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও এই ক্যামেরা বসানো হোক।’ আইনজীবী জয়নব আক্তার বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা স্কুল-কলেজে যায়। আমরা নারীরা বাইরে গেলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি। জেলা প্রশাসনের সিসিটিভি স্থাপনের কারণে দেখা যাবে যারা সন্ত্রাসী এবং অপরাধী তারা সব সময় ভীতসন্ত্রস্ত থাকবে। অনেক সময় আমরা প্রমাণের অভাবে অভিযোগ করতে পারি না। এখন এই সিসিটিভি স্থাপনের মাধ্যমে এসব অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজেই সম্ভব হবে। আমরা নারীদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানাই।’ আধুনিক প্রযুক্তির অত্যাধুনিক এই ক্যামেরায় সহজেই শনাক্ত করা যায় মানুষ ও যানবাহনের আলাদা আলাদা চিত্র। পাশাপাশি স্বংক্রিয়ভাবে দুর্ঘটনা এবং অপরাধীর চিত্র পাঠাবে কন্ট্রোলরুমে। সিসিটিভি স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক দিদারুল ইসলাম রাজিব বলেন, ‘এআই প্রযুক্তির ক্যামেরাগুলো খুবই উন্নত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও শরীয়তপুরে এই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসিয়েছি। এতে মানুষ ও যানবাহনকে আলাদা করে শনাক্ত করা যাবে।’ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, জেলা শহরের পৌর এলাকায় ১২ থেকে ১৪ কিলোমিটার জায়গার গুরুত্বপূর্ণ ১২০টি স্থানে ১২০টি এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা যায়। স্থাপিত এআই প্রযুক্তির ক্যামেরার মাধ্যমে কোনো ফেরারি আসামি এই নজরদারির আওতায় এলে তাকেও শনাক্ত করা সম্ভব হবে। আমাদের পরিকল্পনা আছে ধীরে ধীরে বিভিন্ন উপজেলার শহরগুলোকেও এ প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসা। এসআর/এমএস