ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু, ঈদের আনন্দে পরিবারে বিষাদে ছায়া

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ভাসমান ড্রাম সাঁকো ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে ঈদের দিন এই খুশির মধ্যে মৃত শিশুদের পরিবারে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।শনিবার (২১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় আর কোনো নিখোঁজ না থাকায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এর আগে বিকেল ৪টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ পৌর এলাকার মডেল থানার সামনে কালিকাপুর ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর প্লাস্টিক ড্রামের তৈরি ভাসমান সাঁকো ভেঙে এই ঘটনা ঘটে।মৃত শিশুরা হলো: দেওয়ানগঞ্জ ডাকাতিয়াপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীনের মেয়ে মায়া মনি (১০), তার ছেলে মিহাত (১৪), বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬), মেয়ে খাদিজা (১২) ও দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের বেলতলি বাজার এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন (১৪)।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, থানা মোড় থেকে কালিকাপুর এলকায় যাতায়াতের জন্য দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে নদের ওপর প্লাস্টিক ড্রাম দিয়ে সাঁকো তৈরি করা হয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর সেতুটির কোনো সংস্কার করা হয়নি। এতে সাঁকোটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।আরও পড়ুন: ব্রিজ ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে পড়ে ৩ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ২এতে নদের ওপারে চর কালিকাপুরে মালিহা ইকো পার্ক নামে পিকনিক স্পট, মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্ক তৈরি করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত সাঁকোর সামনে পার্কে ঘুরে আসার বিলবোর্ড টাঙিয়ে দেন।ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বিকেল থেকেই  ভিড় করে নানা বয়সীরা। বিকেল ৪টায় সেতুর ওপর দিয়ে পার্কে যাওয়ার সময় মানুষের চাপে অতিরিক্ত ভারের কারণে সাঁকোটি ভেঙে যায়। এ সময় প্রায় শতাধিক মানুষ নদে ডুবে যায়। এতে ৫ শিশু নিখোঁজ হয়।খবর পেয়ে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।ঈদের এই খুশির মধ্যে পাঁচ শিশুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়। এখন আর কোনো শিশু নিখোঁজ না থাকায় অভিযান বন্ধ করেছেন ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় শান্তি নামে এক শিশু আহত হয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় নদে গোসলে নেমে ২ শিশুর মৃত্যুএ বিষয়ে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ রবিউল ইসলাম আকন্দ বলেন, ‘পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত এক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। আর কোনো নিখোঁজের অভিযোগ না থাকায় আমাদের উদ্ধার অভিযান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরই আমি এখানে চলে আসি। এখানে আমার দলের নেতাকর্মীদের উদ্ধার কাজে সহায়তার নির্দেশ দেই। প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, সহায়তা দিয়ে তো আর শিশুদের ফিরে পাবো না। তারপরও আমি এদের মধ্যে অস্বচ্ছল পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করে যাবো। এ সময় শিশুদের মৃত্যুতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শোক জানিয়েছেন।