ইসরাইলের পারমাণবিক স্থাপনার কাছে ভয়াবহ হামলা, ২০০ নিহতের দাবি আইআরজিসির

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি উদ্ধারকারীরা। তবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হামলায় ইসরাইলে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার (২১ মার্চ) রাতে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় আরাদ ও দিমোনায় এই হামলা হয়। এ শহর দুটি দেশটির প্রধান পারমাণবিক স্থাপনার নিকটে অবস্থিত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর শনিবার দিনের শুরুতে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা এবং দেশটির পাল্টা হামলাকে সবচেয়ে নাটকীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইসরাইলে আঘাত হানা ক্ষেপোস্ত্রকে নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানো পাল্টাপাল্টি হামলার এ সংঘাত নতুন ও কঠোর ধাপ শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরাইলের জরুরি পরিষেবা সংস্থা জানিয়েছে, আরাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৮৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। হামলায় শহরের কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালি খুলতে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের দিমোনায়ও সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এতে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছে বলে ইসরাইলি মিডিয়াগুলো জানায়। ইরানের হামলার বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ হামলাকে ইসরাইলের জন্য একটি ‘কঠিন’ সন্ধ্যা বলে উল্লেখ করে ইরানে হামলা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরইমধ্যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ২০০ শিশুসহ ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিহত খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, হামলার সময় ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল, কিন্তু কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়, যদিও সেগুলো ‘বিশেষ বা অপরিচিত’ ছিল না বলে জানা গেছে। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা জানিয়েছেন, দিমোনা ও আরাদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতে ইন্টারসেপ্টর উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, যদিও তা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে শত শত কিলোগ্রাম ওজনের ওয়ারহেডযুক্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সরাসরি আঘাত হানলে হতাহের ঘটনা ঘটে। আরও পড়ুন: কাতারের জলসীমায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ইসরাইলি আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেন ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝপথে ধ্বংস করতে (ইন্টারসেপ্ট) ব্যর্থ হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি বিমানবাহিনী। এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে ইসরাইলের আরাদ, দিমোনা, ইলাত, বিরশেবা ও কিরিয়াত গাত শহরের সামরিক স্থাপনা এবং নিরাপত্তাকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আইআরজিসি কুয়েতের আলী আল-সালেম ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ও আল-ধাফরা ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। তাদের দাবি, এসব হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও ইসরাইল কোনো নিহতের খবর নিশ্চিত করেনি। দেশটির অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, আরাদ শহরে ৮৮ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দিমোনা থেকে আহত ৩৯ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা