কীটনাশক ব্যবহার না করেই সবজি চাষে গনি মিয়ার বাজিমাত

নিজের পর্যাপ্ত জমি নেই তাতে কী? অদম্য ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রমে যে ভাগ্য বদলানো সম্ভব, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের কৃষক গনি মিয়া। অন্যের কাছ থেকে আড়াই বিঘা জমি লিজ নিয়ে এবং উপজেলা কৃষি অফিসের বৈজ্ঞানিক পরামর্শ কাজে লাগিয়ে বিষমুক্ত লাউ চাষ করে তিনি এখন পুরোপুরি স্বাবলম্বী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গনি মিয়ার বিশাল মাচাজুড়ে ঝুলছে সারি সারি সবুজ লাউ। প্রতিদিন খেত থেকে অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি লাউ বিক্রি করছেন তিনি। শুধু লাউ নয়, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করেছেন পেঁয়াজ, রসুন, বেগুন ও টমেটো। এতে করে এক মৌসুমেই কয়েক গুণ বেশি আয়ের পথ তৈরি হয়েছে তাঁর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে এই সাফল্য পেয়েছেন এই কৃষক। উদ্যোক্তা গনি মিয়া বলেন, কৃষি অফিস থেকে ট্রেনিং নিয়ে লাউ চাষ শুরু করি। আল্লাহর রহমতে ফলন বেশ ভালো হয়েছে। প্রতিদিন লাউ বিক্রি করে আমি আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমার বাগানে আমি কোনো রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করি না। এর বদলে খৈল পচা পানি, কলা এবং আখের লালিগুড় মিশিয়ে তৈরি মিশ্রণ (বিষটোপ) ব্যবহার করছি। সম্পূর্ণ নিরাপদ, বিষমুক্ত ও ফরমালিনমুক্ত এই সবজি কিনতে গনি মিয়ার ক্ষেতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। রতন সরকার নামের এক গ্রামবাসী বলেন, আমরা গনি ভাইয়ের ক্ষেত থেকে নিয়মিত লাউ কিনে খাই। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকমুক্ত হওয়ায় এর স্বাদও দারুণ। তাকে দেখে অনেকেই এখন এমন নিরাপদ চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। গনি মিয়ার এই পরিবেশবান্ধব সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়েছে দূর-দূরান্তেও। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলা থেকে পরামর্শ নিতে আসা সুমন ইসলাম জানান, গনি ভাইয়ের বিষমুক্ত লাউ চাষের খবর শুনে বাগানটি দেখতে এসেছি। আমার নিজের জমি আছে। তার কাছ থেকে ভালো পরামর্শ পেলাম, বাড়ি ফিরে কীটনাশক ছাড়াই আমিও এমন একটি লাউয়ের বাগান গড়ে তুলতে চাই। কৃষকের এই সাফল্যে আনন্দিত উপজেলা কৃষি বিভাগও। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় গনি মিয়াকে বীজ ও সার সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, সরকারি প্রণোদনার আওতায় এবার পুরো উপজেলায় ৫০ জনের বেশি কৃষককে লাউ বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। আমরা কৃষকদের ‘টু-জি’ ও ‘থ্রি-জি’ কাটিং প্রযুক্তির মতো আধুনিক কলাকৌশল সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছি, যার কারণে ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মাঠে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আধুনিক এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আগামী দিনে আমাদের কৃষকরা আরও বেশি স্বাবলম্বী হবেন। মহসীন ইসলাম শাওন/কেএইচকে/জেআইএম