ঈদের সময় বা গরমের দিনে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে আমরা নানা ধরনের পানীয় পান করি। এর মধ্যে ডাবের পানি অনেকেরই প্রথম পছন্দ। এটি প্রাকৃতিক, সতেজ এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় অনেকেই একে ন্যাচারাল এনার্জি ড্রিংক হিসেবে বিবেচনা করেন। গরমে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পানির পাশাপাশি ডাবের পানির চাহিদাও বেড়ে যায়। তবে উপকারী এই পানীয়ও যদি মাত্রার বাইরে খাওয়া হয়, তাহলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। উপকারী ডাবের পানিবিশেষজ্ঞদের মতে, গরমকালে শরীরকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত হাইড্রেশন জরুরি। তবে এর মানে এই নয় যে, একটানা বেশি পরিমাণে ডাবের পানি পান করতে হবে। ডাবের পানিতে পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে খনিজ বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করতে ডাবের পানি কার্যকর ভূমিকা রাখে। বেশি খেলেই যে সমস্যা হতে পারেতবে সমস্যা দেখা দেয় তখনই, যখন অতিরিক্ত ডাবের পানি পান করা হয়। এতে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যাকে বলা হয় হাইপারক্যালেমিয়া। এই অবস্থায় রক্তচাপের তারতম্য দেখা দিতে পারে, হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে এবং পেশি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত ডাবের পানি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হজমের সমস্যাও হতে পারেঅতিরিক্ত ডাবের পানি খেলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।এতে থাকা কিছু ফার্মেন্টেবল কার্বোহাইড্রেটের কারণে গ্যাস, অম্বল, পেটফাঁপা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। যাদের আগে থেকেই পেটের সমস্যা বা গ্যাসের প্রবণতা রয়েছে, তাদের ডাবের পানি খাওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। অতিরিক্ত ডাবের পানি শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যও নষ্ট করতে পারে। কখনও এর মাত্রা বেড়ে যায়, আবার কখনও কমে যায়। এর ফলে মাথা ঘোরা, ক্লান্তি বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ব্লাড প্রেশারও কমে যেতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। দিনে কতটা খাওয়া উচিততবে এর মানে এই নয় যে ডাবের পানি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। বরং সঠিক পরিমাণে খেলে এটি শরীরের জন্য উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক দিনে ১ থেকে ২ গ্লাস ডাবের পানি পান করতে পারেন, যা প্রায় ২৪০ থেকে ৪৮০ মিলিলিটার। অর্থাৎ দিনে একটি মাঝারি আকারের ডাবের পানি খাওয়াই যথেষ্ট। এতে শরীর হাইড্রেটেড থাকবে এবং প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানও পাওয়া যাবে। ডাবের পানি একটি স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক পানীয়। তবে যেকোনো ভালো জিনিসের মতো এটিও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা জরুরি। সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক,এনডিটিভি আরও পড়ুন:ঈদে খাবার টেবিলে ডিটক্স পানি রাখার উপকারিতা ঈদ উদযাপনের জন্য ৫টি স্বাস্থ্য পরামর্শ এসএকেওয়াই