ঢাকায় নগরায়ন আর দখলদারিত্বে হারিয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত জায়গা

রাজধানী ঢাকায় দিন দিন কমছে খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত জায়গা। নগরায়ণ আর দখলদারিত্বে অনেক মাঠ হারিয়ে গেছে। আর যেগুলো আছে তার বেশিরভাগই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। কোথাও মার্কেট, কোথাও বাজার, কোথাও আবার ইজারার নামে দখল হয়ে আছে মাঠ ও পার্ক। দুই সিটি করপোরেশন বলছে, ঈদের পরই অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করা হবে খেলার মাঠ। আর নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, নীতিমালার কথা।নব্বই দশকের দিকেও রাজধানী ঢাকায় খেলার মাঠ ছিল চোখে পড়ার মতো। অপরিকল্পিত উন্নয়নে সেই তালিকাটা এখন যেন কাজীর গরুর মতো কেতাবে আছে, বাস্তবে নেই। রাজধানীর প্রায় ৭০শতাংশ খেলার মাঠই এখন বেদখল। কোথাও ক্লাব, কোথাও মার্কেট, আবার কোথাও বসেছে হাটবাজার। যেসব মাঠ এখনো আছে তারও সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার রয়েছে। পুরান ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ধুপখোলা মাঠও তার ব্যতিক্রম নয়। একসময় এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রধান স্থান ছিল মাঠটি। তবে এখন এর একাংশে তৈরি করা হয়েছে বহুতল মার্কেটের অবকাঠামো। এই প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিল সিটি করপোরেশনই। অন্যদিকে ধানমন্ডি ক্লাব মাঠও বছরের পর বছর ধরে ইজারার নামে দখলে রয়েছে। ধানমন্ডি সোসাইটি মাঠের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করলেও তা এখনো অনুমোদন পায়নি। তবুও মাঠটির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই। একাডেমির নামে খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও নেয়া হচ্ছে অর্থও। ধানমন্ডি ক্লাবের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম সময় সংবাদকে হুমকি দিয়ে বলেন, আপনি (সাংবাদিক) বলছেন যে আপনি মাঠের ছবি তুলতে চান, আপনার কাছে মনে হয় মাঠ খোলা, আপনি তো ক্ষমতা দেখিয়ে আসছেন, আপনার মতো বহু মানুষ আমারও পরিচিত আছে। রাজধানীর প্রায় ৭০শতাংশ খেলার মাঠই এখন বেদখল। ধানমন্ডি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ওয়াসিক খান সময় সংবাদকে বলেন, আমাদের আবেদনপত্র দেয়া আছে যে, আমরা মাঠটি রক্ষাণাবেক্ষণ করতে চাই, এটা আমাদের দেয়া হোক। নির্বাচিত সরকার ছিল না বলে এটার কোনো সিদ্ধান্ত আসে নাই। আপনারা যে টাকা নিচ্ছেন সেটা কোথায় যাচ্ছে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ফোনে তিনি বলেন, সোসাইটি এটা সংগ্রহ করে আবার সেটা দিয়ে দিচ্ছে কোচদের কাছে বলেও জানান নাজমুল ওয়াসিক খান। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে মাঠগুলো আবারও উন্মুক্ত করা হবে। উত্তর সিটি করপোরেশনের চিত্রও অনেকটা একই। প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে দখল হয়ে আছে মিরপুর-৬ নম্বরের ঈদগাহ। যেখানে মাঠজুড়ে গড়ে উঠেছে কাঁচাবাজার। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আশ্বাস উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানেরও। মাঠ দখলদারদের আইনের আওতায় আনাসহ মাঠ ও পার্ক ব্যবস্থাপনায় সুস্পষ্ট নীতিমালা করার আহ্বান জানান নগর পরিকল্পনাবিদ। রাজধানীর মাঠ-পার্ক দখলমুক্ত করতে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি নগরবাসীর। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দখলদারিত্ব, মাঠের ইজারাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে ঢাকা শহরের ৭০শতাংশ মাঠই রয়েছে বেদখল অবস্থায়। বেদখল হয়েছে পার্কও। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে মাঠ উদ্ধার করে নতুন সরকার কি ফিরিয়ে দিতে পারবে শিশুদের শৈশবের দুরন্তপনা?