১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার বিচার ও স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। গণহত্যা, ধর্ষণ ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের নথিভিত্তিক বিবরণে জোরালো বার্তা দিয়েছেন কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান।গত শুক্রবার (২০ মার্চ) ওহিও অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান প্রস্তাবটি পেশ করেন। প্রস্তাবটি বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এতে ২৫ মার্চের ‘অপারেশন সার্চলাইট’ থেকে শুরু করে পাকিস্তানি বাহিনীর পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ এবং বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাবে ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’, সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের প্রতিবেদনসহ আন্তর্জাতিক নথি উল্লেখ করে ঘটনাগুলোকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার দায়ে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ইতিহাস সংরক্ষণ ও ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। আরও পড়ুন: গাজা গণহত্যা হয়তো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরেও ভোলা যাবে না: মাহাথির মোহাম্মদ মার্কিন আইনসভা ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘গভট্র্যাক’-এর তথ্য অনুসারে, এই প্রস্তাবে তৎকালীন মার্কিন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন বিশ্ব সংস্থার নথিভুক্ত বিবরণকে তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয়লাভ করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর অভিযান শুরু করে। এতে তৎকালীন ঢাকাস্থ মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাডের পাঠানো ঐতিহাসিক বার্তার উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। সেখানে তিনি এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতাকে ‘নির্বাচিত গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। আরও পড়ুন: ইসরাইলি অস্ত্র কোম্পানির বিজ্ঞাপনে গাজা গণহত্যার ভিডিও